আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালায় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশ ছেড়ে পালায় না।  বিএনপি নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়।  বাংলার মানুষের কথা ভেবেই দেশে এসেছি, পালাতে নয়।’ রোববার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।  বিদেশে থাকায় আমরা দুই বোন বেঁচে যাই।  আমি জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র রুখে শুধু দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লক্ষ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসি।

এরশাদ, খালেদা জিয়া কেউ এদেশের মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা দেয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ আজ দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে।  বিএনপি বলে ক্ষমতা গেলে পালানোর সুযোগ পাবেন না।  আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না।  পালায় আপনাদের নেতারাই।  যেই নেতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে ভেগে গিয়েছিল, সেই দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত নেতা আজ বড় বড় কথা বলে।  বিএনপি-জামায়াতের পাচার হওয়া ৪০ কোটি টাকা দেশে ফেরত আনা হয়েছে।শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না।  আর দেশ স্বাধীন না হলে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।  আর সেই নৌকার ওপর এত ক্ষোভ কেন?

সরকারপ্রধান বলেন, রাজশাহী সারাজীবন অবহেলার ছিল।  আপনারা এখানে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমরা উন্নয়ন করেছি।  রাজশাহীতে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে।  রাজশাহীতে ৪ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে।  আজ যে কাজগুলো উদ্বোধন করা হলো এগুলো রাজশাহীবাসীকে আমার উপহার।

শেখ হাসিনা প্রায় ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং প্রায় ৩৭৬ কোটি ২৮ হাজার টাকা ব্যয়ে আরও ছয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে জনসমুদ্রে পরিণত হয় মাঠ।

সর্বসাধারণের জন্য জনসভাস্থল সকাল ৮টার পর খুলে দেওয়া হয়।  সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে মাদ্রাসা মাঠে প্রবেশের মূল গেটে হাজার হাজার নেতাকর্মীর জটলা দেখা যায়।  একেক নেতার অনুসারীরা নিজেদের পরিচয় জানান দিতে পরিধান করেছেন নানা রঙের টি-শার্ট, গেঞ্জি, টুপি।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টু বলেন, রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা উপলক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠে এসেছেন। বিভাগের আট জেলা থেকে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এতে যোগ দিয়েছেন।