চট্টগ্রাম বাণিজ্য মেলায় মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির মহোৎসব

এক মাসে চুরির ঘটনা সাড়ে তিনশ’র অধীক

চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজ আয়োজিত ৩১তম চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলছে। প্রতিদিন কেনাকাটা কিংবা পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার দর্শনার্থীরা। তবে এই মেলাকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একদল চোর চক্র, লেগেছে মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির হিড়িক। মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের সাথে থাকা দামি মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা কিংবা মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি অথবা ছিনতাই করাই এই চোর চক্রের মূখ্য উদ্দেশ্য।

মেলা উদ্বোধনের পর থেকেই মেলা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। বন্ধের দিনগুলো ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে চোখে পড়ে না সেই চিরচেনা ভিড়। তবে এতো কিছুর পরও বন্ধ নেই চোর চক্রের চুরি-ছিনতাইয়ের কাজ। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০টি এবং ছুটির দিনে ২৫টির অধীক চুরির ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়ার তালিকায় রয়েছে দর্শনার্থীদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা, মহিলাদের ভ্যানিটি ব্যাগ ও অন্যান্য দামি জিনিস পত্র।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মেলা শুরুর দিন থেকে এখন পর্যন্ত একমাসে প্রায় সাড়ে তিনশ’র অধীক মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ভ্যানিটি ব্যাগ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, মেলায় পর্যাপ্ত সিসি টিভি ক্যামেরা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও চুরি যাওয়া মোবাইল কিংবা অন্যান্য বস্তু উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

চট্টগ্রামের ইপিজেট এলাকার বাসিন্দা শফি উল্লাহ বলেন, মেলায় আমার মোবাইল চুরি হয়েছে, এই নিয়ে আমি থানায় জিডি করেছি। তবে এখনো আমার মোবাইল উদ্ধার হয়নি।

উদ্বেগ কন্ঠে শফি উল্লাহ আরও বলেন, যখন আমি বুঝতে পারি আমার মোবাইল চুরি হয়েছে, আমি সাথে সাথেই মেলার পুলিশ বক্সে অভিযোগ করতে যাই। গিয়ে দেখি আমার মতো আরও তিন-চার জন ভুক্তোভোগী পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

শমি বৈদ্য নামের আরেক দর্শনার্থী বলেন, মেলায় ঘুরতে এসে আমি হতাশ। যে আনন্দ নিয়ে মেলায় এসেছিলাম ফিরতি পথে তা মাটি হয়ে গেল। মেলায় এতো পুলিশ, এতো এতো সিসি ক্যামেরাÑ এর ভেতরও মেলায় চুরি হচ্ছে। আমি মনে করি মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় মেলা কর্তৃপক্ষের আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত।

মেলার মুখ্য ঘোষক হামিদ উদ্দিন দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, প্রায় প্রতিদিন আমার কাছে মোবাইল ও অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ আসে। বন্ধের দিনগুলোতে চুরির ঘটনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক দৈনিক দেশ বর্তমান বলেন, মেলায় ২৪ ঘণ্টার জন্য অইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মেলায় বেশ কয়েকটি চুরির অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। ভুক্তোভোগীরা থানায় জিডি করেছেন। যারা জিডি করেছেন তাদের হারানো মোবাইল ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধারে অভিযান চলমান।

তবে মেলায় সাড়ে তিনশর অধিক চুরির ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি অস্বীকার করে মেলা কমিটির চেয়ারম্যান একেএম আখতার হোসেন দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, মেলায় পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে চুরির ঘটনায় আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।

তিনি আরও বলেন, মেলার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তায় আমাদের মনিটরিং সেল রয়েছে। ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেলে আমাদের কর্মীরা নিয়োজিত। সুতরাং কোনোভাবেই মেলার ভেতর চুরি-ছিনতাই অথবা বিশৃঙ্খলা ঘটার প্রশ্নই আসে না।