চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক মো. আজিবুল ইসলাম আরিফ (১৮) খুনের ঘটনার ৬৬ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিকে এখনো শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। গত ১২ জানুয়ারি ভোর রাতে চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন চেয়ারম্যান সড়কের পাশে ধান ক্ষেতের জমিতে এ ঘটনাটি ঘটে।
এঘটনায় খুনিদের শনাক্তে ঘটনার আশপাশ, কর্ণফুলীর পুরাতন ব্রিজঘাট ও চরপাথরঘাটা সড়কের অর্ধশতাধিক সিটি-টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি স্বয়ং থানা পুলিশ, পিবিআই ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশও।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, এখনো পর্যন্ত তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে হত্যার ঘটনা ‘ক্লুলেস’। কেউ আটক বা গ্রেপ্তার নেই। তবে পুলিশের দাবি, তাঁরা শিগগিরই খুনিদের সনাক্ত করতে পারবেন।
রিকশা চালক আরিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপি কর্ণফুলী থানার এস আই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরেই ৫০টিরও অধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও কোন তথ্য মেলেনি। এমনকি সন্দেহজনক ১০ জনের অধিককে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে সিসিটিভি ফুটেজ ও রিকশায় কিছু চিহ্ন রয়েছে। যা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। যেহেতু হত্যা মামলা। নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।’
এ ঘটনায় ভিকটিম আরিফের মা শাফিয়া বেগম ঘটনার পর দিনেই বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি রেখে সিএমপির কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, কর্ণফুলীর এই ঘটনায় ছায়া তদন্ত হিসেবে মাঠে নেমে কাজ করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), এলিট ফোর্স, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশের একাধিক টিম।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (এসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের একাধিক টিম জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ক্লুলেস ঘটনা তাই একটু কষ্ট হচ্ছে। যেহেতু লেগে আছি সত্য বের হবেই।’
বন্দর জোনের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শাকিলা সোলতানা বলেন, ‘পুলিশ খুব সূক্ষ্মভাবে এ হত্যা মামলার তদন্ত চালাচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখতে একাধিক টিম বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে তদন্তের কাজ করছে। ইতোমধ্যে আমরা অনেক তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি- সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। খুনের রহস্য উদঘাটন হবেই আর খুনিরাও ধরা পড়বে।’