প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৪০০ মেগাওয়াট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল (পারমাণবিক চুল্লি পাত্র) স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছেন।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে আরএনপিপির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। এ কেন্দ্র থেকে মানুষের কোনো ক্ষতি হবে না। এর মাধ্যমে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হবে।
এ সময় বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট সবসময় থাকবে না।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও রাশিয়ার আণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জিয়াউল হাসান। অনুষ্ঠানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
প্রকল্পটির প্রায় ৫৩ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি এবং ৫৫ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রথম ইউনিটের সার্বিক অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।
রূপপুর প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। র্বতমানে এই প্রকল্পটিতে ৩৩ হাজার জনবল কাজ করছ। তার মধ্যে বিদেশি জনশক্তি রয়েছে সাড়ে ৫ হাজার। সংশ্লষ্টি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে খরচ হবে ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ টাকা ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া।
গত বছরের ১০ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পই দেশের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সর্বাধিক ব্যয়বহুল প্রকল্প।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াট। সক্ষমতার তালিকায় রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হলে উৎপাদন সক্ষমতা সাড়ে ২৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে।