জমকালো আয়োজনে ২২ জন উদীয়মান নারীর হাতে উঠলো সম্মাননা স্বরক
ফ্যাশন ফর লাইফ' এর উদ্যোগে "উদীয়মান নারী পুরস্কার ২০২৪"
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বেচ্ছাসেবী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ফ্যাশন ফর লাইফের’ উদ্যোগে বিভিন্ন কাজে সাফল্য রাখা নারী ব্যাক্তিত্বদের “উদীয়মান নারী পুরস্কার ২০২৪” প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৯ মার্চ) নগরীর চিটাগাং ক্লাব লিমিটেড প্রাঙ্গণে বিকেল ৬ টায় এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে ৭ম বারের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ-গান ও র্যাম্প শো পরিবেশিত হয়। এতে ৩০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে নতুন পোশাক ও শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এরপর সন্ধ্যা ৭ টায় প্রতিষ্ঠিত নারীদের পাশাপাশি নানাক্ষেত্রে অবদানের জন্য উদীয়মান ২২ নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ফ্যাশন ফর লাইফের সভাপতি আনিস ওয়ারেসী ও প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান শিহাব সাগীরের স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠান আরাম্ভ হয়। মহিউদ্দিন মাসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন ইমতু রাতিশ ও ফারহানা খান যুঁথি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত সাংবাদিক দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক। এ সময় তিনি নিজ হাতে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রাপ্ত ২২ জন উদীয়মান নারীকে সম্মাননা স্বারক তুলে দেন।

এতে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন সানসাইন এডুকেশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টি সাফিয়া গাজী রহমান এবং উদ্যোক্তা ও সামাজকর্মী রওশন আরা চৌধুরী। সাফল্যে অনুপ্রেরণা প্রদানের জন্য ওমেন বিহ্যাইন্ড দ্যা ইন্সপাইরেশন পদক পেয়েছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের স্ত্রী আরিফ জেসমিন কণিকা। আয়রন লেডি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন চট্টগ্রামের প্রথম নারী সাংবাদিক ডেইজি মওদুদ ও ব্যবসায়ী কাজী ইসরাত জাহান ইভা। অসামান্য সহযোগিতার জন্য উইমেন ফর আউটস্ট্যান্ডিং সাপোর্ট পুরস্কার পেয়েছেন ফাতেমা জোহরা অ্যানি। কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মেহেনাজ বিলকিস।

এছাড়াও উদীয়মান নারীদের মধ্য থেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদানের জন্য “ইমার্জিং ওমেন এওয়ার্ড ২০২৪” এ ভূষিত হয়েছেন ড. শারমিন সুলতানা, রুনি রহমান, কুন্তলা চৌধুরী, সোনিয়া আজাদ, উম্মে মাইসুন, আসমা বিথী, অঞ্জলী সেনগুপ্তা, তানজিলা আক্তার, পূজা পাল, মিতা রহমান, তাসনুভা আনোয়ার, হুরিল জান্নাত, প্রমি দে, রিয়াংকা, নাবিলা নওয়শিন সূচনা, নুসরাত নাহার রাশমি শিকদার, বিবি ফাতেমা মুক্তা, রাহিলা সুলতানা জুহি, শান্তা ইসলাম রাইসা ও তানজিলা টুইংকেল।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, এমন একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি মনে করি প্রতি বছর এই ধরনের উদ্যোগ বারবার গ্রহণ করা উচিত। যাতে আমাদের নারীরা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরো স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা পায়।
ইমার্জিং ওমেন এওয়ার্ডের আহবায়ক ডা. সাবরিনা তাসনিম জানান, উন্নয়নে নারীর অসামান্য অবদানকে তুলে ধরার জন্য এই আয়োজন। এমন সম্মাননা নারীর ঘরে-বাইরে উভয়ক্ষেত্রে নারীকে স্পৃহা যোগাবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল ইউনিভার্সিটির উপ-পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, ঘাসফুলের চেয়ারম্যান ড. মজুরুল আমিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, দৈনিক আজাদীর প্রধান প্রতিবেদক হাসান আকবর, বারকোড রেস্টুরেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল হক, এনএইচটি হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানসির তাইমুর মোর্শেদ, রোটারি জেলার ডেপুটি গভর্ণর মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিএফইউজে’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজহার মাহমুদ, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ইয়াসির সিলমি, চট্টগ্রাম আওয়ামী যুবলীগের সহ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল নিপু, বেসরকারি কারাপরিদর্শক ইয়াসির আরাফাত কচি, জেন্ট এক্সেসরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন, সাজ্জাদ বিন খালেদ, ফোম মাস্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহেদা ইয়াসমিন, শায়লা ইসলাম ফ্লোরা, চট্টলকুড়ির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব চৌধুরী, নৃত্যশিল্পী শুভ্রা বিশ্বাস, ফেরদৌস শিপন, নগরফুলের প্রতিষ্ঠাতা বায়েজিদ সুমন।
অনুষ্ঠানে সহযোগী হিসেবে ছিল নগরফুল, ইস্পাহানী মির্জাপুর, এনএইচটি হোল্ডিংস লিমিটেড, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম, ব্লুমুন, চারুচট্টগ্রাম, দ্য লাইটিং স্টাইল, চট্টলকুড়ি, ডেন্টাল ইন, ফ্যাশকোড, ডাইন আইট, নিশান ফটোগ্রাফি ও বাংলাদেশ লাইভ।