পুলিশের ‘মন রক্ষা’ করতে না পারায় মামলা!

পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগ

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা দিতে অপারগতা দেখানোয় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে নগরীর বাকলিয়া থানার এসআই আমির হোসেনের বিরুদ্ধে। এ যেন পুলিশের ‘মন রক্ষা’ করতে না পারায় মামলা! চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ইলশা এলাকার আবদুল্লাহ আল নোমান এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার দাবী মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ সত্য নয়।

গতকাল রবিবার বিকালে ভুক্তভোগী আবদুল্লাহ আল নোমান দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, বিগত ১০ বছর যাবত ‘একতা প্লাস্টিক’ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। গেল ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এসআই আমির হোসেন বাকলিয়া থানার নতুন ব্রীজস্থ বিসিএস হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অবস্থিত আমার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আমাকে বলেন, ব্যবসা করতে হলে প্রতিমাসে চাঁদা দিতে হবে। অন্যথায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেব বলে হুমকি-ধমকি দেন। ওই সময় আমার প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যান হিসাবে নিয়োজিত মো. বোরহান প্রকাশ আরিফ মোবাইলে ভিডিও করলে কিছুক্ষণ পর একটু দূরে গিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে যেকোন কিছুর বিনিময়ে ঊনি আমার ক্ষতি করবে এবং এটার খেসারত সারা জীবন দিতে হবে। পুলিশ কর্মকর্তার এই হুমকির অংশ হিসাবে গত ১ মার্চ সন্ধ্যায় প্লাস্টিক কারখানার ফোরম্যান আরিফকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেন। যেখানে মামলায় আমাকে ২ নং আসামী করে পলাতক দেখায়। মূলত চাঁদা দিতে অপরাগতা দেখানোয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদক মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করছে। এ মামলা থেকে পরিত্রাণ পেতে আজ (রবিবার) মাননীয় পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়েছি। পুলিশ কমিশনার বরাবর করা অভিযোগে ঘটনার বর্ণনার সাথে মামলার আগে ঘটনাস্থলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও সংরক্ষণে আছে বলেও দাবী করেন এই ভুক্তভোগী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাকলিয়া থানার সাধারণ ডায়েরি নং-৩৫, ০১/০৩/২০২৪ মূলে আমি সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাকলিয়া থানা এলাকায় নতুন ব্রীজস্থ বিসিএস হাউজিং সোসাইটির এ ব্লকের ৩ নং রোডের ১৯ নং প্লটের উত্তর-পূর্র্ব কোণে পৌঁছলে একজন লোক পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ফ্যাক্টরি থেকে পালানোর চেষ্টাকালে অফিসার ফোর্সের সহযোগিতায় ধৃত করি। জিজ্ঞাসাবাদে নাম মো. বোরহান প্রকাশ আরিফ (২৬) এবং তার হেফাজতে মাদকদ্রব্য গাঁজা আছে বলে স্বীকার করে। তার দেখানো ও সনাক্ত মতে মোট ৭ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা। এসব গাঁজা পাইকারী বিক্রি করার জন্য রেখেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

তবে এজাহারে দেওয়া সাক্ষী আনোয়ার হোসেন ও মো. শিপনের দাবী, তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় করছে পুলিশ।

মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর সত্যতা জানতে চাইলে বাকলিয়া থানার এসআই আমির হোসেন দেশ বর্তমানকে বলেন, মাদক পাওয়ায় মামলা দিয়েছি। এর আগে ঘটনাস্থলে যাওয়া এবং হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গিয়েছিলাম, কার অভিযোগ ছিল জানতে চাইলে নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। তবে হুমকি-ধমকির বিষয়টি অস্বীকার করে, থানায় গিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অনুরোধ করেন।

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার বরাবর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির অতি. পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) প্রকৌশলী আবদুল মান্নান মিয়া দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও যেসব পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, বিভাগীয়ভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই অতিরিক্ত কমিশনার।