গ্যাস আমদানিতে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন বিজিএমইএ

রফতানিমুখী শিল্পের কথা বিবেচনায় নিয়ে গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেন,  চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের অপ্রতুলতা আছে। কারখানাগুলোতে ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালানো হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এরপর ২০২৩ সালে এসে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম আগের বছরের তুলনায় ১৫০ শতাংশ । নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের গ্যাসের দাম ১৬ টাকা থেকে ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বড় শিল্পের ক্ষেত্রে ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ১৫০ শতাংশ বেড়ে ৩০ টাকা হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের ব্যয় বাড়ার এই ভার বহনের সক্ষমতা নেই।’ সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, রফতানিমুখী শিল্পের কথা বিবেচনায় নিয়ে গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহারের জন্য।

রোববার (২২ জানুয়ারি) সকালে নগরীর খুলশীতে বিজিএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিজিএমইএ  সভাপতি ফারুক  হাসান বলেন, ‘অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২২ সালে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ৪৫ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২১ সালের চেয়ে পোশাক রফতানি বেড়েছে ২৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ। শিল্পের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি করেন বিজিএমইএ সভাপতি।  গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক শিল্পখাত ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরে আমাদের পোশাক রফতানি বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। চীন থেকে গত কয়েক বছরে অনেক ক্রয় আদেশ বাংলাদেশে এসেছে। আগামী আট বছরে এর পরিমাণে আরও বাড়বে। চীন যেহেতু পরিবেশগত কারণে টেক্সটাইল থেকে সরে আসছে, ফলে সঙ্গত কারণেই সেগুলো বাংলাদেশে আসবে বলে আমরা ধারণা করছি। আমরা এই সুযোগগুলো গ্রহণ করতে চাই।’

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন,বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশকে পেছনে ফেলে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাষ অনুযায়ী, আগামী এক-দুই দশকে এক ট্রিলিয়ন অর্থাৎ এক লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে আমাদের দেশ। গত ছয় বছরে দেশের গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। সেটি যদি ৫ শতাংশেও নামে, তাতেও ২০৪০ সালের মধ্যেই এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানো সম্ভবব। আর প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হলে ২০৩০ সালেই সেখানে পৌঁছানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি চালু করেছি। চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যানে ৫০০ নারী কর্মীকে আমরা পড়াবো। দক্ষতা অর্জন করে তারা এ শিল্পকে সামনের দিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

এ সময় বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, রাকিবুল আলম, শাহিদুল আরিফসহ অন্যন্য কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।