নিয়ন্ত্রণহীন জাতীয় বিশবিদ্যালয়ে ভর্তির ওয়েবসাইট!

মো. রাশিদুল হাসান একজন বেসরকারী চাকরিজীবী। ছাত্রজীবন থেকে ইচ্ছা ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করবেন। ছাত্র জীবনে ব্যাটে-বলে না মেলায় অন্য বিষয় নিয়ে স্নাতকত্তোর শেষ করে দীর্ঘদিন ধরে পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত আছেন। চাকরির পাশাপাশি আবারও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বঙ্গবন্ধু ল টেম্পল, চট্টগ্রাম থেকে এলএলবি প্রিলি পাশ করেন। ফাইনাল বর্ষে ভর্তির জন্য গত বছরের ১৬ নভেম্বর ভর্তি ফিসহ প্রয়োজনীয় ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেন চট্টগ্রাম আইন কলেজে। কিন্তু বিধি-বাম, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি কলেজ কার্যালয় থেকে ফোন আসে ভর্তি নিশ্চায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এ কথা শুনে রাশেদের মাথায় চিন্তার ভাজ, সব ঠিকঠাকভাবে করার পর কেন সমস্যা হলো! পরে অনেকদিন ঘোরাঘুরি ও বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টার পর অন্যজনের করে দেওয়া ভুল আবেদন বাতিল করে নতুন করে আবেদন করতে সমর্থ হন এবং স্বস্তির নিশ্বাস ফিরে পায় ভুক্তভোগী এই ছাত্র। নিয়ন্ত্রণহীন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রাশেদের মতো ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের একজনের ফরম অন্য জনের পূরণ করার সুযোগ থাকায় অনিশ্চয়তায় থাকে ভর্তির মধ্যদিয়ে অনেকের শিক্ষাজীবন। তথ্য-প্রমাণ পেলে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সচিব।

সম্প্রতি দৈনিক দেশ বর্তমান চট্টগ্রাম অফিসে আসা অন্যজনের করা ভুল আবেদনটিতে দেখা যায়, ছবির স্থলে কালো সাদৃশ্য একটি কাগজের ছবি। জন্ম তারিখ অন্য জনের। প্রতিষ্ঠান বঙ্গবন্ধু ল টেম্পল, চট্টগ্রাম। যার ওই সময়ের আইপি এড্রেস ৫৮, ১৪৫, ১৮৫, ২২৬। অথচ আবেদনকারী বিষয়টির কিছুই জানতেন না।

বিষয়টি নিয়ে ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য গত ৮ জানুয়ারি কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর আবেদনও করেন ভুক্তভোগী রাশেদুল হাসান। যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অবগত না থাকায় কোনো সহযোগিতা করতে পারেনি। এমন কাণ্ডে প্রতিকার ও দুস্কৃতকারীকে সনাক্ত করতে নগরীর কোতোয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন ভুক্তভোগী রাশেদুল। যেটি বর্তমানে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিট তদন্ত করছে।

ভুক্তভোগী রাশিদুল হাসান দেশ বর্তমান বলেন, অনেক আশা নিয়ে চট্টগ্রাম আইন কলেজে ভর্তি হতে কাগজপত্রসহ ফি জমা দিয়েছিলাম। অথচ কে বা কারা আমার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে ছবি ছাড়াই ভুল জন্ম তারিখ বসিয়ে অন্য কলেজে আবেদন করে, যাতে আমি পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে না পারি এবং শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যাতে দুস্কৃতকারী চিহ্নিত হয় এবং আর কারও শিক্ষা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

রাশিদুলের সহপাঠি আব্বাস উদ্দিন মানিক, শেকান্দর হোসাইন, মো. মঈনুদ্দিন, সাহিন সরকার, শরীফুল্লাহ ও এহছান উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে একজন ছাত্রের শিক্ষা জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা ঠিক নয়, যে বা যারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে এমন অপরাধ কাণ্ড আরও ঘটাবে।

চট্টগ্রাম আইন কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর চৌধুরী দেশ বর্তমানকে বলেন, ভুলভাবে অন্য কলেজে আবেদনের বিষয়টি বাতিল করে সঠিকভাবে ফিলাপের সহযোগিতা চেয়ে আমার বরাবরা আবেদন করেছে ভুক্তভোগী ছাত্র। যেহেতু কলেজ থেকে এই ভুল আবেদনটি করা হয়নি সেহেতু বিষয়টি কে বা কারা করেছে সেটি জানতে আমরাও চেষ্টা করেছিলাম। পরে ওই ছাত্র বিভিন্ন মাধ্যমের সহযোগিতা নিয়ে এটি বাতিল করে আমার কলেজ বরাবর আবারও আবেদন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন এই দুস্কৃকারীকে চিহ্নিত করা জরুরী। না হয় এই ছাত্রের মতো অন্যদের শঙ্কা রয়ে যাবে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আসিফ মহিউদ্দিন দেশ বর্তমানকে বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। এটার তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীর চেনা-জানা কেউ শত্রুতাবশত কৌশলে এই কাজটি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান। তদন্ত শেষে আশা করি এই রহস্যের দ্বার উম্মোচন হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সচিব ড. আলী জাফর দেশ বর্তমানকে বলেন, ছাত্র/ছাত্রীরা আবেদন করে অনলাইনে, যে কারণে কে কোথায় থেকে আবেদন করছে যেটা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কিছুই জানি না। কে কোথায় থেকে আবেদন করেছে সে তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আমরা ভেরিপাই করতে পারি না। একজন আরেকজনের ফরম পূরণ করলে সেটা তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ পেলে দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতে এই বিষয়ে অহরহ ফরম বাতিল করেছি।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেরিজম ইউনিট এটার তদন্ত করছে তদন্ত তাদের সহযোগিতা করবেন কিনা এমন প্রশ্নে অবশ্যই সহযোগিতা করবেন বলেও জানান এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দেশ বর্তমান/এআই