পেকুয়ায় আ’লীগ নেতার লবণ মাঠে দুর্বৃত্তের তাণ্ডব

কক্সবাজারের পেকুয়ায় গভীর রাতে আ’লীগ ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্যের ৬০ শতক লবণ মাঠে তাণ্ডব চালালো দুর্বৃত্তরা।

এ সময় লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত পলিথিন কেটে ফেলা হয়। পানি ও সেঁচপাম্প, লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম উজানটিয়া ষাট দুনিয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ৬০ শতক লবণ মাঠের জমি নিয়ে উজানটিয়া সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জামাল হোসেনের সাথে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নতুনঘোনা পেকুয়ারচর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র আজিজুল হক গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

জায়গাটি সরকারের বেস্ট অব প্রপার্টি (ভিপি) সম্পত্তি হিসেবে অন্তর্র্ভূক্ত। ১৯৭৬-৭৭ এর দিকে ২১ নং মিচ মামলামূলে আশরাফুজ্জামান নামক ব্যক্তি বন্দোবস্তীপ্রাপ্ত হন। ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল ওই জায়গা আশরাফুজ্জামানের ওয়ারিশ মাষ্টার নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসমাইল স্বত্ত বিক্রি করেন জামাল মেম্বারকে। সেই সময় থেকে ওই জমি রক্ষণাবেক্ষন করছিলেন তিনি।

চলতি লবণ মৌসুমে ওই জমি মনির হোসেন নামক এক চাষাকে লাগিয়ত করা হয়। জামাল মেম্বারের চাষা মনির বিরোধীয় জমিতে লবণ উৎপাদন আরম্ভ করে। ঘটনার দিন রাতে একদল দুর্বৃত্তরা জমিতে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় লবণ মাঠে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। এমনকি মাঠে বিছানো পলিথিন কেটে সাবাড় করে। সেচপাম্পসহ লবণ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীও লুট করে নিয়ে যায়।

এ ব্যপারে সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, এ জমি আমার ভোগ দখলীয়। আশরাফুজ্জামানের ওয়ারিশরা আমাকে স্বত্ত্ব বিক্রি করে। আজিজুল হক ভাইস চেয়ারম্যানের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করছে। ফক্সি একটি কাগজ তৈরী করে তারা। আমি ওই কাগজের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করেছি। আজিজুল হকের পিতা নুরুল ইসলামের নামে আরেকটি বন্দোবস্তী মামলা আছে। এ জায়গার সাথে তার বাবার নামে বন্দোবস্তীর অনেক পার্থক্য আছে। কিন্তু এরপরও হয়রানি করছে। রাতে আজিজুল হকের অনুগত মৃত আমির হামজার পুত্র মমতাজ, মোজাম্মেলসহ দুবৃর্ত্তরা এসে মাঠে তান্ডব চালায়। আমার প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে।

এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, এ জমি আমরা ৫০ বছর ভোগ করছি। থানায় বিচার আছে। ইউনিয়ন পরিষদও বিচার আছে। এ সব না মেনে জামাল মেম্বার মাঠে নামছে। বিষয়টি সম্পর্কে অনেকের জানা শুনা আছে।