তৃণমূল পর্যায়ে দ্বন্দ্ব সংঘাত এড়িয়ে দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই দলীয় প্রতীক ছাড়া উপজেলাসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে আওয়ামী লীগ। এসব নির্বাচনে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর প্রতি দলের সমর্থনও থাকবে না বলে জানিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে দলের যোগ্য নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা। গত সোমবার গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত আসে, স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না দেওয়ার। ২০১৫ সালের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিধান ছিল না। এ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রথম সভার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে। কেন এ সিদ্ধান্ত, এমন প্রশ্নের জবাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শৃঙ্খলার বিষয়টিকে সামনে আনছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘সরাসরি নৌকা মার্কায় নির্বাচন করবে একজন, দলের প্রতীক নিয়ে। নৌকার বিপক্ষে যদি দলের নেতাকর্মীরা কথা বলেন, বিপক্ষে ভোট চায় তাহলে তো আমি মনে করি সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। ভবিষ্যতে এটা কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা হারায় কিনা সেটাও তো আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।’ দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দলীয় প্রতীক থাকবে কি থাকবে না। থাকলে ভালো হয় বা খারাপ হয়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি কেন্দ্রীয় মিটিংয়ে। আলোচনায় একটি বিষয় এসেছে যে, এই মুহুর্তে দলীয় প্রতীক না থাকলেই সবকিছুর জন্যই ভাল হয়।’ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে যেহতু নির্বাচন হচ্ছে না, সেখানে যে যার পছন্দের জনপ্রিয় প্রার্থীকেই তো ভোট দেবে। সেই সুযোগটা তো সকলের কাছেই থেকে যায়।’ জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘দলীয় প্রতীক যেহতু আমরা দিচ্ছি না, দল যেহতু মনোনয়ন দিচ্ছে না অর্থাৎ দলীয়ভাবে নির্বাচন হচ্ছে না, সেখানে দল কাউকে সমর্থন দেওয়ারও সুযোগ নেই। এখন স্থানীয় সংসদ সদস্য সে কি করবে সেটা দেখা যাক।’ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় নেয়া নতুন এ সিদ্ধান্তের পর নেতারা বলছেন, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এ সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচন, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে সাধারণ নির্বাচন ও ৯টি পৌরসভাসহ কয়েকটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড মিলে ২৩৩টি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৯ মার্চ। এছাড়াও, আগামী এপ্রিল মাসের শেষ থেকে শুরু হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।