বিশ্বশান্তি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

বিশ্বশান্তি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব । রোববার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মারকাজের তাবলিগ জামায়াতের সুরা সদস্য মাওলানা মো. জোবায়ের হাসান।

মাওলানা জুবায়েরের কণ্ঠ ভেসে এল মাইকে, ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সমস্ত গুনাহ মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের ঈমানকে মজবুত করিয়া দেন। আমরা তওবা করিতেছি। আপনি আমাদের রব, আপনি আমাদের গুনাহকে মাফ করিয়া দেন। হে আল্লাহ, আপনি সব উম্মতকে মাফ করিয়া দেন। এসময় চারপাশের লাখো মুসল্লি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আবেগাপ্লুত লাখো মুসল্লির কণ্ঠে তখন উচ্চারিত হয় ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি।

এর আগে ফজরের পর বয়ান শুরু হয়। এরপর হেদায়তি বয়ান হয় এবং হেদায়তি বয়ানের পরপরই আখেরি মোনাজাত শুরু হয়।
এদিকে মোনাজাতে অংশ নিতে গতকাল শনিবার দুপুরের পর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন সাধারণ মুসল্লিরা। দুপুরের পর থেকেই তাঁরা ইজতেমা মাঠের দিকে আসতে থাকেন। এর মধ্যে আজ জায়গা পাবেন না—এমন ভাবনায় রাত থেকেই তাঁরা অবস্থান নেন ইজতেমার মাঠসংলগ্ন সড়ক-মহাসড়কে। মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। যান চলাচল বন্ধের কারণে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে জড়ো হন মুসল্লিরা।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) আম বয়ানের মধ্য দিয়ে এবারের গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়। এই পর্বে মাওলানা মো. জোবায়েরের অনুসারীরা অংশ নেন।

এদিকে টঙ্গীতে প্রথম পর্বের ইজতেমা ময়দানে শনিবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত আরও চার মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সাত জনে মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।

মৃতরা হলেন, খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানার মলমদিয়া গ্রামের মোবারক হোসেন খানের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন খান (৭০), ঢাকা কেরানীগঞ্জের হাজী হাবিবুল্লাহ হবি (৬৮), চট্টগ্রাম সদরের রাউযান এলাকার আ. রশিদ মিয়ার ছেলে আ. রাজ্জাক (৭০) ও নরসিংদীর মনোহরদীর মাছিমপুর গ্রামের মৃত রহমতুল্লার ছেলে হাবিবুর রহমান (৭০)।
এর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার আক্কাস আলি সিকদার (৫০), সিলেটের জৈন্তাপুরের নুরুল হক (৬৩) ও গাজীপুরের ভিরুলিয়ার তৈয়ব আবু তালেব (৯০) মারা যান।

মৃতদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে তাবলিগ জামায়াতের গাজীপুর মারকাজের শূরা সদস্য তৈয়ব আবু তালেব মারা যান। আর নুরুল হক অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। সকালে ইজতেমা ময়দানের ৬২ নম্বর খিত্তায় অবস্থানকালে নুরুল হকের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং এর কিছু সময়ের মধ্যেই তিনিও মারা যান। ওইদিন দুপুরে ইজতেমা ময়দানে জানাজা শেষে দুজনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য ও মিডিয়া সমন্বয়ক মুফতি জহির ইবনে মুসলিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাবলিগ জামাতের বিবদমান বিরোধের কারণে এবারও বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে আলাদাভাবে। শুক্রবার সকালে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। এই পর্বে অংশ নিয়েছেন জুবায়েরপন্থীরা। রোববার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হলো প্রথম পর্বের ইজতেমা। এরপর ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি চলবে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা। ওই পর্বে অংশ নেবেন সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা।