চট্টগ্রাম বিভাগে সংসদীয় নির্বাচনী আসন সংখ্যা মোট ৫৯টি। এর মধ্যে সরাসরি নির্বাচন করছেন ৫ নারী প্রার্থী। তথ্যমতে ৫৯ আসনের মধ্যে অন্তত ৩০ নৌকার প্রার্থী ঝুঁকিতে রয়েছেন। অন্যদিকে, সিলেট বিভাগের মোট সংসদীয় আসন সংখ্যা ১৯টি। একটি আসনে নারী প্রাথী পেয়েছে এই বিভাগ। এসব আসনের মধ্যে ৯টিতেই ঝুঁকিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় আসন ১৬টি। এর বাইরে কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলা নিয়ে ১১টি সংসদীয় আসন। কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) আসনে নৌকা প্রতীকের ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যরিস্টার নাঈম হাসানের। কুমিল্লা-২ (মেঘনা-হোমনা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল আলম ও আবদুল মজিদের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুনের সঙ্গে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের লড়াই হতে পারে। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান এমপি আবুল হাশেমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহের, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী শওকত মাহমুদের চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুমিল্লা-৬ সদর আসনের আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী সংরক্ষিত নারী এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটুর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু জাফর মোহাম্মদ শফিউদ্দিনের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরুল ইসলাম মিলনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মো. তাজুল ইসলামের (এলজিআরডি মন্ত্রী) সঙ্গে জাতীয় পার্টির গোলাম মোস্তফা কামালের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণ-লালমাই) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আ হ ম মোস্তফা কামালের (অর্থমন্ত্রী) সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোনাকী হুমায়ুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মো. মুজিবুল হকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার ছয়টি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে নৌকার প্রার্থী বদরুদ্দোজ্জা মো. ফরহাদ হোসেন এমপিকে চোখ রাঙাচ্ছে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী কলার ছড়ি প্রতীকের সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে ‘জোটসমর্থিত’ লাঙল প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান আলম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে আসনটিতে লাঙ্গলকে চোখ রাঙাচ্ছে কলার ছড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মঈন উদ্দিন। বেশ উত্তেজনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে। পোস্টার ছেঁড়া, পোস্টার ছিনতাই, সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার অভিযোগ-এসব মিলিয়ে জমে উঠেছে এই আসনের নির্বাচনী মাঠের লড়াই। এ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতা কাঁচি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজুর রহমানকে।
প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান নিশ্চিত হতে শুরু করেছে। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। তার সঙ্গে ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিন। গুঞ্জন রয়েছে, নৌকা ও ট্রাক প্রতীকে লড়াই হবে তুমুল। নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম। তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক। ফলে এখানেও নৌকা মার্কা অনেকটা চাপে পড়েছে। নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরন। তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের ছোট ভাই মিনহাজ আহমেদ জাবেদ। ফলে কিরনের সঙ্গে জাবেদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমকে বাদ দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন না পেয়ে ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জাফর আলম। নির্বাচনে আসা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়ে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের ভোটের চিত্র বদলে যাচ্ছে ক্রমাগত। ঈগল প্রতীক নিয়ে এই আসনে মাঠে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাইকোর্টের আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ। দলীয় প্রার্থী থাকায় প্রচার ও গণসংযোগকালে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও গোপনে অনেকেই সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। তা ছাড়া কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুনও ভোটের মাঠে ‘ফ্যাক্টর’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া টেকনাফ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন মো. নুরুল বশর। আসনটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান এমপি শাহীন আক্তার। টকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় বদলে গেছে সমীকরণ। খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মোকাবেলা করতে হবে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফর প্রধান প্রসীত বিকাশ খীসাকে। বিএনপি বিহীন এই নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জেলার সচেতন ভোটার মহলে। বান্দরবানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বীর বাহাদুর উশেশিং, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিস্কৃত প্রসন্ন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-ইউপিডিএফ‘র জেলা সংগঠক ছোটন কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা। এ নির্বাচনে ‘ত্রিমুখী’ লড়াই হবে বান্দরবানে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আবুল বাশারের সঙ্গে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা ইশতিয়াক আহমেদ সৈকত। ইশতিয়াক আহমেদ ফেনী-৩ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছে। ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনে যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য বায়রার সভাপতি আবুল বাশার মনোনয়ন পেয়েছেন। চাঁদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তার সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য এম ইসফাক আহসানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। মায়া চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমর্থন নিয়ে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। এবার চাঁদপুর-৩ আসনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণি। এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী থাকলেও দীপু মনির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সামছুল হক ভূঁইয়া। তিনি চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। এবার সেখানে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে পাশের আসনে দীপু মনির বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন তিনি।