বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ৮১ বছর বয়সী এই দেশ প্রেমিকের বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার আহল্লা দরবার এলাকায়। গতকাল সোমবার দুপুরে বোয়ালখালী থেকে এই প্রবীণ এসেছিলেন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চাঁন্দগাও) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবদুচ ছালামের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে। নেতা-কর্মীর ভীড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপক্ষো করে অবশেষে দেখা মেলে তাঁর স্নেহের আবদুচ ছালামের সাথে। অনেক্ষণ অপক্ষোর কথা শুনে শুরুতে করমর্দন করে তাকে বুঁকে নেন আবদুচ ছালাম। এ সময় মোজাম্মেল হক চৌধুরী নিজের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর কর্মী, আপনিও (আবদুচ ছালাম) বঙ্গবন্ধুর কর্মী, তাই দেখতে এসেছি। দোয়া করতে এসেছি। আমার এলাকায় আপনি সাংসদ হলে বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসাবে আমি খুশি হবো। আমার কেনো চাওয়া পাওয়া নেই, তবে নির্বাচিত হলে নতুন কালুরঘাট সেতু বানিয়ে বোয়ালখালীবাসীর স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা করবেন।’ উত্তরে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালাম ওই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বলেন, ‘আপনি এই বয়সে আমাকে দেখতে এসেছেন, বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসাবে এটাই আমার বড় প্রাপ্য। নির্বাচিত হলে অবশ্যই নতুন কালুরঘাট সেতু নির্মাণে শতভাগ চেষ্টা করবো। এছাড়া আমি-আপনি এবং আপনাদের পাশে আগেও ছিলাম বর্তমানেও আছি এবং ভবিষতেও থাকবো’। তা বলে আবারো জড়িয়ে ধরেন এবং দোয়া প্রার্থনা করেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।
শুধু বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক চৌধুরী নন, এসেছেন বোয়ালখালী পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ডে মুফতিপাড়া হাজির হাট এলাকার ৬৭ বছর বয়সী আবুল কালামও। প্রার্থীর সাথে দেখা করে কথা বলতে পেরে খুশি তিনিও। আবুল কালাম দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, ছালাম ভাই সিডিএ’র চেয়ারম্যান থাকতে চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়ন করেছেন, যাহা এখন দৃশ্যমান। তাই নির্বাচিত হলে আমার ইউনিয়নসহ সমগ্র বোয়ালখালীর রাস্তাঘাট এবং সামগ্রীক উন্নয়নের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখবেন বলে আশ^স্ত করেছেন।
এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে নগরীর সিএন্ডবি এলাকার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ-বোয়ালখালী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের কর্মসূচি ছিল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়। নগর আওয়ামী লীগের মতবিনিময় হলেও নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি উপস্থিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুচ ছালামকে সমর্থন ও ভোট দিতে আহ্বান জানান যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা।

এ সময় বক্তরা বলেন, আবদুচ ছালাম চট্টলবীর এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর যোগ্য শিষ্য। তিনি স্বপ্ন দেখান না, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। সিডিএ’র চেয়ারম্যান পদে থেকে উন্নয়নের মাধ্যমে মাত্র ১০ বছরে তিনি চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও সততা থাকলে অনেক অসাধ্য কাজ সহজে সম্পন্ন করা যায়- চট্টগ্রামে বড় বড় প্রকল্প প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করে আবদুচ ছালাম তার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। আমরা মনে করি, তার কাছে জনগণের প্রত্যাশাতো আছেই, তার চেয়েও বড় কথা তাঁর নিরলস পরিশ্রম মেধায় চট্টগ্রামবাসী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী তথা কিছু মানুষের ভাষায় কামলা খাটার মাধ্যমে চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার, আউটা রিং রোড, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে, আধুনিক সৈকত, জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পসহ শহরে আভ্যন্তরীন সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরন ও নতুন সড়ক নির্মাণ, আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা, আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের মধ্য দিয়ে একটি বদলে যাওয়া চট্টগ্রাম উপহার দেয়ার স্বীকৃতি ও প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ আমাদের হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে কেতলী মার্কায় কর্মবীর আবদুচ ছালামকে এমপি নির্বাচিত করে শহর গ্রাম সবখানে উন্নয়নে চমক দেখতে চাই।
সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন হোসেন বাবুল, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চু, শফিক আদনান, চন্দন ধর, মশিউর রহমান চৌধুরী, মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি বখতেয়ার উদ্দিন খান, কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম, কাজী নুরুল আমিন মামুন, এম আশরাফুল আলম, মোবারক আলী, এসরারুল হক, মহিলা কাউন্সিলর জেসমীন আক্তার জেসি, ফেরদৌস বেগম মুন্নি।
পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সামশুল আলমের সভাপতিত্বে ও চান্দগাঁও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক নিজাম উদ্দিন নিজুর সঞ্চালনায় অনুুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি মাহাবুবুল হক সুমন, আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু, নোমান চৌধুরী, প্রমূখ । সভাশেষে সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুচ ছালাম সবাইকে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে কেটলি মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।