‘এমপি নদভীর নির্দেশে চেয়ারম্যান সুমনের বসত ঘরে গুলি, নির্বাচনী কার্যালয় ও গাড়ি ভাংচুর হয়’

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনার প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মিনহাজ

চট্টগ্রাম—১৫ (সাতকানিয়া—লোহাগাড়া) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আবদুল মোতালেব এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান বলেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেবের সমর্থক ও পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিদুয়ানুল ইসলাম সুমনের বসত ঘরে গুলি চালিয়ে হত্যার চেষ্টা ও স্বজ্জন ব্যক্তি মোতালেবের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর সাতকানিয়ার ইতিহাসে ববোর্রোচিত ও নৃশংস হামলার বহি:প্রকাশ। বর্তমান এমপি আবু রেজা নদভীর নির্দেশে তার সন্ত্রাসী ও পেটুয়া বাহিনী দিয়ে ঘটানো ঘটনা সাতকানিয়া অতীত ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়। ভারি অস্ত্র—সস্ত্র দিয়ে রাতের আধারে কাপুরুষোচিত হামলা শেখ হাসিনার নির্দেশিত ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানকে শুধু প্রশ্নবিদ্ধই করছে না, তা জাতি ও বিশ্বের কাছে আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াশ বলে মনে করছি।

তিনি বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৮ টার দিকে  সাতকানিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডস্থ স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব এর সাতকানিয়া উপজেলার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে পশ্চিম ঢেমশার ইউপি চেয়ারম্যান ও আবদুল মোতালেবের সমর্থক রিদুয়ানুল ইসলাম সুমনের বসত ঘরে হামলা ও গাড়ি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেবের নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুরের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মিনহাজ বলেন, ঢেমশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সৈয়দ ওমর ফারুকের নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতি তার কর্মকে জনগণের কাছে প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। তবে থানা পুলিশ যদি এঘটনায় দ্রুত এগিয়ে না আসত তাহলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। অথচ যারা হামলাকারী তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে।

অপর প্রশ্নের জবাবে ডা. মিনহাজ বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রথম  থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাতকানিয়াকে অশান্তির জনপদে পরিণত করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন এমপি নদভী। সাতকানিয়ায় ১০ বছর আগে যারা অস্ত্রের কারখানা তৈরি করেছিল তারাই এখন তার (নদভী) ভোট যাত্রার সারথী। সাংবাদিকরা বিষয়টি তদন্ত করলে সহজেই এর সত্যতা খঁুজে পাবে। মনে রাখতে হবে জয়লাভের যাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছি, সে অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না।

অপর প্রশ্নে ডা. মিনহাজ আরো বলেন, ইতোমধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জনপদে ভারি অস্ত্রের মহড়া শুরু হয়েছে। অস্ত্র ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

এমপি নদভীর বক্তব্যের জবাবে সাংবাদিকদের ডা. মিনহাজ বলেন, নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে নদভী সাহেব একের পর এক সাজানো ঘটনা প্রসব করে চলেছেন। মিথ্যার বেসাতি ছড়িযে দিয়ে সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছেন। এসব ফাঁকা বুলি ও অসৎ উদ্দেশ্যের জবাব সাতকানিয়া—লোহাগাড়ার জনগন আগামী ৭ জানুয়ারী ব্যালটের মাধ্যমে দিবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সাতকানিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আনজুমান আরা, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেব এর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের, এওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু ছালেহ, সাতকানিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান রিদুয়ানুল ইসলাম সুমন, পৌর মহিলা কাউন্সিলর শাহানাজ পারভীন, মাছুমা বেগম, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর শিকু আরা বেগম, পৌরসভা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবদুল গফুর লালু, আওয়ামীলীগ নেতা আমির উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি রিদুয়ানুল হক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম সুমন, সাধারণ সম্পাদক নবাব মিয়া রকিব ও  উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।