লোহাগাড়া এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ মোতালেবের

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন লায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রাথী আব্দুল মোতালেব।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং অফিসারকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

অভিযোগে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌকার প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, তার স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী এবং লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের পিএ মোহাম্মদ রোবেলসহ বেশকিছু কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

আব্দুল মোতালেব অভিযোগে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে গত সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে কিছু অনুসারী নিয়ে চুনতিস্থ প্রখ্যাত শাহ্ সাহেব কেবলার পবিত্র মাজার জিয়ারত করতে যান তিনি। সেখানে মাজার জিয়ারত শেষে হুজুর কেবলার পরিবারের সদস্যদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। সম্প্রতি উক্ত মাজারের আয়োজনে পবিত্র সিরাতুন্নবী মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আয়োজনের স্বেচ্ছাসেবক ও হুজুর কেবলার পরিবারের সদস্যগণকে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় শাহ সাহেব হুজুর কেবলার একটি পারিবারিক পুনর্মিলনী ও ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই পরিবারের সদস্য ও হুজুর কেবলার নাতনী, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সাজেদা সুরাত উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগে আব্দুল মোতালেব আরও উল্লেখ করেন, রাত আনুমানিক আটটার দিকে হুজুর কেবলার বাড়িতে হাজির হন লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন লায়েল ও উপজেলা চেয়ারম্যান এর পিএ মোহাম্মদ রোবেলসহ কতিপয় লোকজন।
সেখানে গিয়েই পারিবারিক এই আয়োজনের কয়েকটা ছবি মোবাইলে ধারণ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরীর মোবাইলে পাঠান তারা। আর এ সময় মোবাইলে রিজিয়া রেজা চৌধুরীর সাথে কথা বলেন এবং পারিবারিক এই আয়োজনকে নির্বাচনি আয়োজন আখ্যা দিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের একটি আষাঢ়ে গল্প মঞ্চস্থ করেন তারা।

আব্দুল মোতালেব বলেন, আর এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে কোন বাছবিচার না করেই সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপস্থিত সাজেদা সুরাতসহ আব্দুল মোতালেব এর সঙ্গীয়দের চরম নাজেহাল করেন। যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৭৭(১) (৩) এর অধীনে কৃত অপরাধ। প্রশাসনকে এমন মিথ্যা তথ্য প্রদান অব্যাহত রাখলে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আয়োজিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের আয়োজন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে তুলে ধরেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন লায়েল বলেন, আমি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইনামুল হাসান এর নির্দেশে সেখানে গিয়েছি। তবে যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনটাই সত্য নয়, আমি এই ধরনের কোন ঘটনা ঘটাইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইনামুল হাসানের মোবাইলে একাধিক বার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি কল কেটে দেন।

জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার প্লাবন কুমার বিশ্বাসের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান সহ তাঁরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সন্দীপ উপজেলায় ছিলেন এ বিষয়ে তিনি অবগত নন।