কাল আওয়ামী লীগের সম্মেলন

নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আসছে নতুন নেতৃত্ব

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি পদে বহাল রেখে কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আসবে নতুন নেতৃত্ব।  তবে গুরুত্বপূর্ণ অন্য পদগুলোতে কি পুরানো নেতৃত্বই থাকছে, নাকি পরিবর্তন আসছে- এ নিয়ে কৌতুহল এখন নেতাকর্মীদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল থেকেই ২০২৪ সালের নির্বাচনী দিক-নির্দেশনা এবং দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আওয়ামী লীগ কী কাজ করবে, সে বিষয়গুলো নেতাকর্মীদের জানানো হবে।

ইতোমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা সম্মেলনের স্থান পরিদর্শন করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, এবারের সম্মেলনে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় তুলে ধরা হবে।  সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে ‘উন্নয়ন অভিযাত্রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়’।

এ উপলক্ষে ১১টি উপ-কমিটি কাজ করছে।  প্রথা অনুযায়ী সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ও সদস্য সচিব সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  সকাল সাড়ে ১০টায় শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে আসন গ্রহণের পর আধঘণ্টা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হবে।  এরপর শোক প্রস্তাব পাঠ করবেন দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন ওবায়দুল কাদের।  স্বাগত বক্তব্য দেবেন অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক শেখ ফজলুল করিম সেলিম।  শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হবে।

পরে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শুরু হবে কাউন্সিল অধিবেশন।  এই অধিবেশনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে।  দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, এবার সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রমোশন দেবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা।  যারা দলে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন, তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রমোশন দেয়া হবে।  এছাড়া বয়স বেশি হওয়ায় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং কার্যনির্বাহী সদস্যপদ থেকে বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন।  একই সঙ্গে নারী ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে বাদ পড়তে পারেন আওয়ামী লীগের দুই-একজন সাংগঠিক সম্পাদক।

তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও এই পদে নেতাকর্মীদের আলোচনায় উঠে এসেছে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফের নাম।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পদ্মা সেতুর ওপরে নৌকার আদলে তৈরি ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ৪৪ ফুট প্রস্থের মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে।  মূল মঞ্চের উচ্চতা হবে ৭ ফুট।  সাংস্কৃতিক পর্বের জন্য তৈরি হচ্ছে আলাদা মঞ্চ।

জানা গেছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কিছুটা কৃচ্ছতা সাধনের লক্ষ্যে সম্মেলনে সাদামাটা আয়োজনের জন্য এ বছর বিদেশিদের দাওয়াত করা হচ্ছে না।  তবে সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ১৪ দল, জাতীয় পার্টি, বিএনপিসহ নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, এবারের সম্মেলন সাদামাটা হলেও নেতাকর্মীর ঢল নামবে। দেশের মানুষ কষ্টে আছে ভেবেই এবার সম্মেলনে সাজসজ্জা করা হয়নি।

২০১৯ সালে সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০ ও ২১ ডিসেম্বর।