প্রার্থীদের খেলাপি ঋণের তথ্য ইসিকে জানাতে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী প্রার্থীদের খেলাপি ঋণের তথ্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ অনুচ্ছেদ এর ১ ধারায় বলা হয়েছে, “কোন ব্যক্তি কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের পূর্বে কোনো ব্যাংক হইতে গৃহীত কোনো ঋণ বা ঋণের কোন কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হইয়া থাকিলে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবেন।” একই অনুচ্ছেদের ১ ধারার উপ-ধারায় (এম) বলা হয়েছে, “কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন যা কোনো ব্যাংক হইতে গৃহীত কোনো ঋণ বা ঋণের কোনো কিস্তি তাহার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের পূর্বে পরিশোধে খেলাপি হয়েছে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবেন।” বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাংকগুলো যদি জানতে পারে, কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসারের কাছে তথ্য পাঠাতে হবে। আগামী ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। আজ শুক্রবার মনোনয়ন যাচাই-বাচাই শুরু হয়েছে শেষ হবে ৪ ডিসেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ২,৭৪১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ২,৭৪১ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর খেলাপি ঋণের বিষয়ে ইসিকে জানাতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের স র্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ঋণের ১০.১১% এখন খেলাপি।