আসন্ন দ্বাদশ নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগসহ সমমনা দল ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত ঘোষণা করেছে। সারাদেশের সাথে তাল মিলিয়ে নির্বাচনী উষ্ণ দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম-১ মিরসরাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনেও। আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা কেউ জেলে বাকিরা আত্মগোপনে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলের ৭ প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়েছিলেন ৩ জন। তারা হলেন- সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, বর্তমান সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মেজ ছেলে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুর রহমান রুহেল ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রভাবশালী সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট।
বাবা দলের প্রেডিয়াম সদস্য, মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়ের ব্যবসায়ীক সহযোগী হওয়ায় দলীয় মনোনয়ন হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন মাহবুবুর রহমান রুহেল।
উদীয়মান তরুণ রাজনৈতিক কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রভাবশালী সদস্য নিয়াজ মোর্শেদ এলিট মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও খোশ মেজাজে আছেন। তিনি দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আমার তেমন মাথা ব্যথা নেই। আমি পূর্বের ন্যায় রাজপথে যুবলীগ চেয়ারম্যান ও দেশ নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কাজ করব।
তবে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গিয়াস উদ্দিন ইতোমধ্যে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের ত্যাগীদের এবার মনোনয়ন দিবেন। আমি ৭৫ এর আগে ছাত্র নেতা, ৭৫ পরবর্তীতে দীর্ঘ ৪৮ বছর আওয়ামী লীগে সক্রীয় রাজনীতি করছি। রাজপথে থেকে মামলা হামলা নির্যাতন কারাভোগ করেছি। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজ পথে রক্ত জরিয়েছি। আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার প্রায় শেষের দিকে। এমন অবস্থায়ও আমি দলিয় মনোনয়ন পাইনি। আমার থেকে আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ মিরসরাইয়ে আর একটাও নেই। এখন আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আমার পেছনে যাওয়ার সুযোগ নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সারা দেশে দলীয় মনোনয়নের বাইরে উপযুক্ত নেতাকর্মীরা নির্বাচন করতে পারবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি থাকায় আমি মিরসরাই থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব ইনশাআল্লাহ। মিরসরাইয়ের মানুষের সেবায় আমি সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। মিরসরাইয়ের মানুষ আমাকে ভালোবাসে তারা আমাকে নির্বাচনে চায়। আমি মিরসরাইবাসির ভালোবাসার প্রতিদান দিতে নির্বাচনে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অপর দিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন সাবেক গোয়েন্দা (এনএসআই) প্রধান সামছুল আলম চৌধুরী শামস (প্রকাশ বিগ্রেডিয়ার শামস)। তিনি সম্প্রতি লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। মনোনয়ন কিনেছেন দলের হাই কমান্ডের নির্দেশে। মনোনয়ন নিলেও নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে চান এই সাবেক গোয়েন্দা প্রধান।
তিনি দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, ভোটের চাইতে এখন সম্মান ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। মনোনয়ন দাখিলের পর নিশ্চয়ই প্রতিক বরাদ্দ হবে। সম্মান জনক ভোট না পেলে নির্বাচনে গিয়ে অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই।
তিনি আরও বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে রুহেল নির্বাচন করবে, তার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলে এমনিতেই আওয়ামী লীগের ভোট দুভাগ হয়ে যাবে। এর মধ্যে আমার ভোট করা উপযুক্ত হবে বলে মনে করছি না। ৮০ ভাগ বলতে পারি আমি নির্বাচনে প্রার্থী থাকছি না। তবে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর পরিস্থিতি দেখে চূডান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারব, এর আগে শতভাগ নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে সম্মান হারিয়ে নির্বাচন করব না।
দেশ বর্তমান/এআই