চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দিয়ে ভাড়া বাণিজ্য চালাচ্ছে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অফিস কর্মচারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, সড়কের জায়গা ভোগ দখল প্রদানের মাধ্যমে প্রতি মাসে লাখ টাকার বাণিজ্য করছে ওয়ার্ক এসিসটেন্ট নীল রতন চাকমা। এ কর্মচারীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাবে এখন ভাড়া বাণিজ্য বেপোরোয়া হয়ে উঠেছে।
পানি নিস্কাশন, যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনারোধে দু-পাশে প্রায় ৬০ ফুট জায়গা খালি রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মিত হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে খালি থাকায় কতিপয় দখলদার জায়গার ওপর স্থাপনা গড়ে তোলে বাণিজ্য শুরু করেছে। ক্রমাগত দখলের কবলে পড়ে শূন্যের কৌটায় পৌঁছেছে পতিত জায়গা। এ অবস্থায় স্থানীয় সওজ অফিসের যোগসাজশে দখল বাণিজ্য চলতে থাকায় সড়কপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানান পথচারী ও যানবাহন চালকরা।
তারা বলেন, সড়কের পাশ ঘেষে পতিত জায়গাজুড়ে প্রতিনিয়ত স্থাপনা গড়ে উঠছে। রাস্তার পাশ ঘেষে স্থাপনা গড়ে ওঠায় ফুটপাতে চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটিতে গাড়ি পার্ক করার অবস্থা থাকে না। জায়গা দখলে অবগত হলে নামে মাত্র নিষেধাজ্ঞা শেষে মোটা অংকের হিসাব-নিকাশে জড়িয়ে পড়ে কর্মকর্তারা। এরপর থেকে প্রতিমাসে মাসোয়ারা আদায়ে বাধ্য করা হয়। মাসোয়ারা প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে দখলদারদের উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হয়।
এদিকে, সড়ক ও জনপদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা দখল বাণিজ্যে জড়িত হয়ে পড়ায় দখল উচ্ছেদে গড়িমসি দেখান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও। এ পরিস্থিতিতে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঘুষের বিনিময়ে স্থাপনা গড়ে তোলে দখল বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে দখলদাররা। ফলে পৌরসদরের ‘কিছুক্ষণ’ হোটেল নির্মাণকালে মোটা অংকের অর্থ প্রদান ও মাসিক মাসোয়রায় নীল রতন চাকমাকে ম্যানেজ করার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘সব দায়িদ্ব সড়ক ও জনপদ বিভাগের নয়। সদিচ্ছা থাকলে স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ নিতে পারে। টাকার বিনিময়ে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেয়ার অভিযোগটি সত্য নয়। এরপরও দখল বাণিজ্যে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।