উপমহাদেশের সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে গান গেয়ে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পী। ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’ খ্যাত এ গুণী সংগীতশিল্পী কুড়িয়েছেন কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা। আজ (১৭ নভেম্বর) খ্যাতিমান এই শিল্পীর জন্মদিন।
রুনা লায়লার বাবার বাড়ি রাজশাহীতে আর মায়ের বাড়ি চট্টগ্রামে। তবে রুনা লায়লা জন্মস্থান কিন্তু সিলেট। কেননা বাবা ছিলেন সিভিল সার্ভেন্ট। চাকরিসূত্রে যখন তিনি সিলেটে অবস্থান করছিলেন, তখনই জন্ম রুনা লায়লার, ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর।
জীবনের বিশেষ দিনটির প্রথম প্রহরে পরিবারের সদস্য, প্রিয়জনদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন রুনা লায়লা। সেই সঙ্গে রুনা লায়লার পরের প্রজন্মের খ্যাতিমান শিল্পীরাও তাকে শুভেচ্ছায় ভাসাচ্ছেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী তিমির নন্দী। তিনি জন্মদিনে রুনা লায়লাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, আজ ১৭ই নভেম্বর, উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী শ্রদ্ধেয় রুণা লায়লা আপার শুভ জন্মদিনে আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধা।
খ্যাতিমান শিল্পী রবি চৌধুরী রুনা লায়লাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছেন, আমাদের একজনই রুনা লায়লা আছেন। যাকে নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি। আজকে আপনার জন্মদিন এই দিনটি বার বার ফিরে আসুক। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুক দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ভালো থাকবেন সব সময় শুভকামনা।
রুনা লায়লার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা লিখেছেন, আমি কখনো ভাবিনি আমি রুনা লায়লা ম্যামের কাছে যেত পারব, কথা বলতে পারব, অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারব। তার কাছ থেকে যেসব পরামর্শ পেয়েছি, আমার মনে হচ্ছে আমি স্বপ্নে বাস করছি। তিনি সত্যিই একটি মিষ্টি মানুষ। শুভ জন্মদিন, জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা ম্যাম।
এছাড়াও খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক নকিব খান, অভিনেত্রী শাবনূর, নন্দিতশিল্পী ডলি সায়ন্তী, শিল্পী দিনাত জাহান মুন্নি, ক্লোজআপ তারকা সালমা ও সাব্বির জামান, কণ্ঠশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজা, কণ্ঠশিল্পী ঝিলিক, শিল্পী কিশোর দাশ সহ আরো অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রুনা লায়লার জন্মদিনে।
বাংলা, উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, বালুচ, ফারসি, আরবি, স্প্যানিশ, ফরাসি, ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান করেছেন উপমহাদেশের স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। তিনি উপহার দিয়েছেন আল্লাহ মেঘ দে পানি দে, বন্ধু তিন দিন তোর বাড়িত গেলাম দেখা পাইলাম না, একা একা কেন ভালো লাগে না, ইস্টিশনে রেলগাড়িটা, সাধের লাউ, খাঁচার ভিতর অচিন পাখিসহ অসাধারণ, জনপ্রিয় অগণিত বাংলা গান ছাড়াও বাংলার পাশাপাশি আরও অনেক ভাষার গান।
নন্দিত এই শিল্পী অভিনয় করেছেন ‘শিল্পী’ নামক চলচ্চিত্রেও। ক্যারিয়ারজুড়ে পেয়েছেন নানা পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা পুরস্কার। এ ছাড়া ভারত থেকে পেয়েছেন সায়গল পুরস্কার। পাকিস্তান থেকে অর্জন করেছেন নিগার, ক্রিটিক্স, গ্র্যাজুয়েটস পুরস্কারসহ জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদক।