মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলার আসামির সাথে ওসির ফুল বিনিময়!
খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস ওসি কবির হোসেনের
চট্টগ্রামে একাধিক ডাকাতি-ছিনতাই মামলার আসামি এবং চিহ্নিত মোটরসাইকেল চোর চক্রের মূল হোতা মেহেরাজ হোসেন চৌধুরী অনির সাথে ফুলের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন। এ সময় মিরসরাই কলেজ ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অনি সেই কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পর থানার সম্মুখে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেহেরাজ হোসেন চৌধুরী অনি স্কুল জীবন থেকেই চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি ও মাদক কারবারের সাথে সম্পৃক্ত। ২০১৯ সালের জুনে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ফেনী জেলার পাঠান বাড়ি থেকে দিনদুপুরে মোটরসাইকেল চুরি করতে গেয় হাতেনাতে ধরা পড়ে। একই সময় ফেনীতে ট্রেন ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ততারও সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া, ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সিএমপির বাইজিদ থানা পুলিশ একটি সুজুকি ঝিকসার মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক সহযোগিসহ মিরসরাই থেকে অনিকে গ্রেফতার করে। এ সময় বাইজিদ থানা পুলিশ তার বাসার বেড় রুম থেকে ছিনতাইকৃত ওই মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে মিরসরাইয়ের প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত এই অনি।
একজন চিহ্নিত মোটরসাইকেল চোর এবং মামলার আসামির সাথে ফুল বিনিময়ের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, মিরসরাই কলেজ ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সদস্যরা আমার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এসেছিল। ওদের কাউকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কারও নামে আগের কোনো মামলা আছে কিনা তাও জানি না।
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি, যদি কারও নামে আগের কোনো মামলা থেকে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।
তবে একটি সূত্র জানায়, অনিকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন ওসি কবির হোসেন। ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে একটি প্রভোক্স গাড়িতে গাঁজার চালানসহ ধরা পড়েছিল মেহেরাজ হোসেন চৌধুরী অনি। সেই সময় রাজনৈতিক উপরমহলের তদবিরে তাকে ছেড়ে দিয়েছিল ওসি কবির হোসেন।
পরে এ বিষয়ে জানতে ফের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেও কথা বলেননি।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকটি ছিনতাই, অপহরণ ও ইভটিজিংয়ের অভিযোগ রয়েছে অনির বিরুদ্ধে। বাদি পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মিরসরাই থানা পুলিশ।
চিহ্নিত মোটরসাইকেল চোর মেহেরাজ হোসেন চৌধুরী অনি সম্পর্কে জানতে চাইলে ১২নং খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, অনি আমার নির্বাচনী এলাকার। তার এক মামা সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। মামার আস্কারায় অনি চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি ও মাদক বাণিজ্যে জড়িয়ে যায়। প্রাইভেটকারে গরু চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন একবার আটক করে। পরে স্থানীয়ভাবে বিচার করে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়না।
চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক জুনু আরও বলেন, তার বাবার বিরুদ্ধেও ইনসুরেস্ট পলিসির কথা বলে মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। তার চেয়ারম্যান মামার বিরুদ্ধেও দুই কিশোরকে মদ খাইয়ে বলাৎকারের ঘটনা পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রচার হয়েছে। ঘটনাগুলো নিয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন জনের কাছে ছোট হতে হয়। এই পরিবারটি নিয়ে আমরা বেশ লজ্জিত।
জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় আটক এবং মামা কর্তৃক দুই কিশোরকে মদ খাইয়ে বলাৎকারের চেষ্টার সংবাদ পত্রিকায় লেখায় চলতি বছরের ১১ আগস্ট দলবল নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিনের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করে অনি। হামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে থানায় আশ্রয় নিলে সেখানেও হামলা করে তারা। পরে থানার ভেতরেই জবাই করে হত্যার হুমকি দেয় অনিসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মিরসরাই থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন : মিরসরাই কলেজ ছাত্রলীগের কমিটিতে চিহ্নিত মোটরসাইকেল চোর অনি
আরও পড়ুন : থানার ভেতরেই সাংবাদিককে ‘জবাই’ করে হত্যার হুমকি, নীরব ভূমিকায় পুলিশ