অবরোধে পণ্য পরিবহনে সহযোগিতা দেবে র‍্যাব–পুলিশ

নির্বাচন কেন্দ্র করে বিএনপিসহ বিরোধীদের হরতাল-অবরোধে অস্থিরতার মুখে দেশের অর্থনীতি। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায়, কনভয়ের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চাইছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মহাসড়কে ৩০০–সহ সারা দেশে নেমেছে র‍্যাবের ৪৬০টি টহল টিম। এছাড়া রাজধানীতে ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। গত ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় দলটির নেতা–কর্মীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধ বিএনপিকর্মীরা কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও। বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। আহত হন প্রায় অর্ধশত। এ সময় সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপরও হামলা করা হয়। ভাংচুর করা হয় গণমাধ্যমের কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল। ওই দিন সন্ধ্যায় রোববার সারা দেশে সকাল–সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। হরতালের মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। তাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে জামায়াতে ইসলামীও তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। তাদের এ অবরোধের শেষদিন গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন করে দ্বিতীয় দফায় রোববার ও সোমবার অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি। প্রতিবারের মতো এবারও এই অবরোধে নিজেদের সমর্থন জানিয়ে একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী। গত সোমবার কর্মসূচি শেষে তৃতীয় দফায় আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার আবারও অবরোধের ডাক দিয়েছে দলটি। গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১১০টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। সংস্থাটি বলছে, এর মধ্যে ২৮ অক্টোবর ২৯টি, ২৯ অক্টোবর ১৯টি, ৩০ অক্টোবর ১টি, ৩১ অক্টোবর ১১টি, ১ নভেম্বর ১৪টি, ২ নভেম্বর ৭টি, ৪ নভেম্বর ৬টি, ৫ নভেম্বর ১৩টি ও ৬ নভেম্বর ১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিএনপি–জামায়াতের অবরোধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মজীবীদের চলাচল দেখা গেলেও অগ্নিসংযোগের কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে পণ্য পরিবহনে। আমদানি-রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২০১৪ সালের আগুন সন্ত্রাসের মতো পরিস্থিতি যাতে না হয়, সেদিকেই সতর্ক দৃষ্টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এই প্রেক্ষাপটে মহাসড়কে কনভয়ের মাধ্যমে যান চলাচলের নিরাপত্তায় র‍্যাব-পুলিশ। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন মহাসড়কে যাতায়াত নির্বিঘ্নে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে র‍্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নকে। সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গণপরিবহন, দূরপাল্লার যে পরিবহনগুলো রয়েছে তারা যদি চান, তাহলে আমরা কিন্তু তাদের নিরাপত্তা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যেমন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে খুলনা এই সমস্ত জায়গায় থেকে আমরা নিরাপত্তা দিচ্ছি। আমাদের এই কার্যক্রমটাও অব্যাহত থাকবে।’ বিরোধী দলগুলোর টানা কর্মসূচি মাথায় রেখে রাজধানীতেও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজাচ্ছে পুলিশ। পোশাক কারখানা, ব্যাংক, বিমাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো, ডিএমপির সব থানা থেকেই এ ধরনের এসকর্ট বা কনভয় সেবা চাইতে পারবে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করি। এমনকি যদি ব্যক্তি পর্যায়েও যদি কেউ আমাদের সহযোগিতা চায়, আমরা কিন্তু এগিয়ে আসি। যার গাড়ি চালানোর ইচ্ছা চালাবেন, আমরা নিরাপত্তা দেব। কারও যদি এর বাহিরে কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আমরা তাদের সহযোগিতা করব, ইনসট্যান্টলি। আমরা দেরি করব না।’