বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বুধবারের সংঘর্ষের পর বৃহষ্পতিবারও (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিন সকাল থেকে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ তৈরি করেছে পুলিশ। যে কোনো ধরণের নাশকতা মোকাবেলায় তাদের এ অবস্থান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গণসমাবেশের স্থান নির্ধারণ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিএনপি-পুলিশ মতবিরোধের মধ্যেই বুধবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করে দলটির নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনার পর দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ চৌধুরী অ্যানি, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এলাকাজুড়ে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এসবের মধ্যে আদালতে হাজিরা দিতে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাজধানীর শাহবাগ থানায় নাশকতার দুই মামলায় তিনি আদালতে হাজিরা দেন। মির্জা ফখরুল ইসলামের আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবা বলেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নাশকতার অভিযোগে মামলা দুটি করা হয়েছিল। ওই মামলাগুলোতে হাজিরা দিতে আদালতে এসেছেন মির্জা ফখরুল। মামলা দুটির তদন্ত এখনও চলছে।
এদিকে নয়াপল্টন এলাকায় কোনো যানবাহন যাতে এ সড়কে প্রবেশ না করতে পারে, সেজন্য বিজয়নগরের নাইটিংগেল মোড় ও ফকিরাপুল মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তারা কিছুটা আতংকের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। পথচারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে প্রবেশ করতে দিচ্ছে পুলিশ। ব্যাগ ও শরীর তল্লাশি করা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত না হলে ব্যারিকেড থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বুধবার রাতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।