অবরোধের প্রথম দিনে বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, নিহত ২

বিএনপির ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধের প্রথমদিন গতকাল (মঙ্গলবার) উত্তপ্ত ছিল ঢাকার রাজপথ। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দিনভর নারায়ণগঞ্জ-কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কুলিয়ারচরে নিহত হয়েছেন দুজন। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দুই পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ভাঙচুর চালানো হয়েছে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সে। এছাড়া সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বাসে আগুন দেয়া হয়; রা

অবরোধে রাজধানীর চিত্র
টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিনে উত্তপ্ত ছিল ঢাকার রাজপথ। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে যাত্রীবাহী বাস, ভাঙচুর করা হয়েছে রাস্তায় নামা ব্যক্তিগত গাড়ি।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় হাইকোর্টের সামনে অবরোধকারীরা এয়ারপোর্ট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেন। প্রাণ বাঁচাতে দিগ্‌বিদিক ছুটতে থাকেন যাত্রীরা।

অবরোধে বিজয়নগরে একজনের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করেন পিকেটাররা।

মাতুয়াইলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়। এতে আহত হন চার পুলিশ সদস্য। উদ্ধার করা হয় চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল। এ ঘটনায় ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মিরপুরে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া করতে দেখা যায় অবরোধ সমর্থনকারীদের। এর একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া আর ইটপাটকেল বিনিময় হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অবরোধকারীদের মিছিল থেকে ছোঁড়া ইটের আঘাতে চকবাজার থানার তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এমন সহিংসতার কারণে দুপুর থেকেই সড়কে যানবাহনের চাপও কমে যায়। তবে নিরবচ্ছিন্ন থাকে রেল ও নৌ যোগাযোগ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সহিংসতা প্রতিরোধে ও জনগণের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে আছেন তারা।

দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধের চিত্র
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ছয়সুতি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া; পরিস্থিতি রূপ নেয় সংঘর্ষে। এ সময় ইউনিয়ন কৃষক দলের এক নেতাসহ দুই জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আহত হয়েছেন শতাধিক।

এছাড়া একই সময়ে ভৈরবে দুর্জয় মোড় এলাকায় মি‌ছিল বের ক‌রে বিএন‌পি। প্রতিবাদে একই স্থানে আওয়ামী লীগ পাল্টা মিছিল বের করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষ পরে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

এদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের পাঁচরুখী এলাকায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা গাছের গুঁড়ি, সিমেন্টের পিলার ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে। লাঠিসোঁটা হাতে দফায় দফায় মিছিল করেন তারা। বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ।

এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ভাংচুর করা হয় দুটি বাস। রেহাই পায়নি অ্যাম্বুলেন্সও। আধঘণ্টা ধরে চলে দফায় দফায় সংঘর্ষ। একপর্যায়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় পুলিশের এএসআই মতিন ও কনস্টেবল নুরুলকে। পরে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে, আহত দুই পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছে।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া-বনানী-লিচুতলা এলাকায় অবস্থান নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে। তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি কাভার্ডভ্যান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন অবরোধকারীরা। খবর পেয়ে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার রাতের মতো মঙ্গলবার সকালেও চট্টগ্রামে যাত্রীবাহী একটি বাস ভাংচুর করে আগুন দিয়ে সেটি পুড়িয়ে দিয়েছেন অবরোধকারীরা। এছাড়া, সিটি গেট এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। গাজীপুরেও একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়া হয়।

এছাড়া কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।