অবরোধ- সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে শৃঙ্খলা বাহিনী
* রাতে সড়ক বাতি জ্বালাতে দুই মেয়রকে পুলিশের চিঠি # গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মাঠে থাকবে র্যাব - কমান্ডার খন্দকার আল মঈন পরিচালক(মিডিয়া), র্যাব # নাশকতা ঠেকাতে জিরো টলারেন্স থাকবে পুলিশ -চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, মহাপরিদর্শক, পুলিশ
বিএনপি-জামায়াতের দুইদিনে অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানী জুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্তক অবস্থানে রয়েছে। নাশকতা ঠেকাতে র্যাব-পুলিশ-বিজিবি পৃথক কৌশল নির্ধারণ করেছে। ওই দিন সকাল থেকে সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও পয়েন্টকে ঘিরে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকবে। চোরাগুপ্তা হামলা ঠেকাতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সড়ক বাতি জ্বালিয়ে রাখতে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। সেইসঙ্গে চারজনের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাত্রিকালীন নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। ঢাকার সন্দেহভাজন বাসা বাড়ি, মেস ও হোটেলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সূত্র বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁওসহ রাজধানীর ৫০ স্পটে থাকবে র্যাব ও পুলিশের চেক পোস্ট। কাউকে সন্দেহ হলে কিংবা যানবাহন থামিয়ে তল্লাশী করবে বাহিনীর সদস্যরা। নাশকতা এড়াতে পুলিশের সাজোয়া যান এপিসি, জলকামান এমনকি প্রিজনভ্যানও প্রস্তুত রাখা হবে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে। এদিকে অবরোধ থাকলেও মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্বাভাবিকভাবে চলাচলের জন্য সহযোগিতা করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জানা গেছে, নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ‘ক্রাইম সিন’ উল্লেখ করে কর্ডন টেপ দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছে সিআইডি। এর দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে পুলিশ। এর ফলে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। এদিকে বিএনপি’র কার্যালয়ের সামনেসহ নয়াপল্টনের বিভিন্ন অলি-গলিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ। তা ছাড়া যে সব ভবন ও পুলিশ বক্স ভাংচুর করা হয় সেই স্থানে ‘ক্রাইম সিন’ উল্লেখ করে কর্ডন টেপ দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সূত্র বলছে, পুলিশ ও র্যাবের তরফ থেকে বাড়ানো হয়েছে রোবাস্ট পেট্রোল ডিউটি। পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। রাজধানীর প্রতিটি রাস্তায় থাকা সড়ক বাতি জ্বালিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। যাতে কোনোভাবে অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চোরাগুপ্তা হামলা হতে না পারে। ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাও। পুলিশের সব সদস্যকে স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে।
ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. ফারুক হোসেন বলেন, নাশকতা এড়াতে সব সময় সতর্ক রয়েছি। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। কেউ সহিংসতা ঘটালে ছাড় দেয়া হবে না।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মাঠে থাকবে র্যাব। কর্মসূচির নামে নাশকতা ঘটালেই ব্যবস্থা দেওয়া হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, নাশকতা ঠেকাতে জিরো টলারেন্স থাকবে পুলিশ। একই সঙ্গে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। যাতে করে কেউ নাশকতা কর্মকান্ড চালাতে না পারে। এ ছাড়া প্রতিদিনের মত যানবাহন চলাচল করবে।