রাতভর ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহত ১৪৩
গাজায় যুদ্ধ না থামালে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে: ইরান
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অব্যাহত রয়েছে ইসরায়েলি হামলা। ইতিমধ্য অনেক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে ইসরায়েলি হামলায় উত্তর গাজা মারি সঙ্গে মিশে গেছে। রোববার রাতে দেইর আল বালাহ শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর রাতভর অভিযানে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৬২ জন। শহরটির বৃহত্তম হাসপাতাল আল আকসা মারটেয়ার থেকে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। এদিকে ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ না থামালে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দেইর আল বালাহ শহরে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর রাতভর অভিযানে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ২৬২ জন। সরেজমিনে হাসপাতলটি পরিদর্শন শেষে সিএনএনের প্রতিনিধি জানান, আল আকসা মারটেয়ার হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় অনেকের দেহ বাইরে হাসপাতাল চত্বরে রাখা হয়েছে। লাশ বুঝে নিতে হাসপাতালে জড়ো হয়েছেন আত্মীয় পরিজন ও বন্ধুবান্ধবরা। তাদের শোকে ভারী হয়ে উঠেছে আল আকসা মার্টেয়ার হাসপাতালের রোববার রাতে দেইর আল বালাহে অভিযান চালানোর পর সোমবার ভোরেও হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫ বার বিমান বাহিনী গোলাবর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন। আইডিএফের এক মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, হামাসের আর্টিলারি বিভাগের উচ্চপর্যায়ের একজন কমান্ডার দেইর আল বালাহ এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল তাদের কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রোববার রাতে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
বিমান বাহিনীর অভিযানে হামাসের ওই কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন আইডিএফের ওই মুখপাত্র। তবে আল আকসা মার্টেয়ার হাসপাতালের আশ পাশের এলাকায় গোলা হামলায় আইডিএফের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন তিনি।
গত ৭ অক্টোবর ভোরে ইসরায়েলের উত্তরাংশে ইরেজ সীমান্তে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস। সেদিন কয়েকশ’ হামাস যোদ্ধা বুলডোজার দিয়ে সীমান্ত বেড়া ভেঙে ইসরায়েলের প্রবেশ করেন, শত শত ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিকদের হতাহত করেন এবং ইসরায়েল থেকে ২ শতাধিক মানুষকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যান।
এই জিম্মিদের মধ্যে ইসরায়েলি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নাগরিকরা রয়েছেন এবং তাদের সবাই বেসামরিক নাগরিক।
হামাসের নেতারা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য এই যুদ্ধ শুরু করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামাসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করেই যুদ্ধের ময়দান ছাড়বে আইডিএফ। ইসরায়েলকে সতর্ক করে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধ না থামালে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ইসরায়েলকে সামরিক সমর্থন দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দোষারোপ করেছেন আব্দুল্লাহিয়ান। ইরান গাজার হামাস এবং লেবাননের গেরিলা দল হিজবুল্লাহ উভয়কেই সমর্থন দিয়ে আসছে। হিজবুল্লাহ এরই মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারাও হামাস-ইসরায়েল সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন। তবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তা আসার কয়েকঘণ্টা পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু উত্তর ইসরায়েলের লেবানন সীমান্তে সেনাদের উদ্দেশে এক বার্তায় বলেছেন, তার মানুষেরা নিজেদের জীবনের জন্য লড়াই করছে, দেশের জন্য লড়ছে, এটি কোনও বাড়াবাড়ি নয়। এটি যুদ্ধ এবং হামাসের বিরুদ্ধে তাদের এই যুদ্ধ মরণপণ লড়াই।