শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ভারত-নিউজিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডেভন কনওয়ে দলীয় ৯ রানে এবং উইল ইয়ং দলীয় ১৯ রানে আউট হলে চাপে পড়ে যায় নিউজিল্যান্ড দল। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে রাচিন রাবিন্দ্র এবং ড্যারল মিচেল ১৫২ বলে ১৫৯ রানের শক্ত ভিত দাঁড় করে। তাদের দুজনের রানে ভার করে নিউজিল্যান্ড দল ২৭৪ রানের টার্গেট দেয় ভারতকে।
ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল প্রথম থেকেই বলে রানে সমানে সমান ব্যাটিং করে যান। তাদের ওপেনিংয়ে মনে হচ্ছিল সহজের ম্যাচের ফল তাদের নাগালে ধরা দেবে। কিন্তু দলীয় ৭১ রানের মাথায় রোহিত শর্মা ব্যক্তিগত ৪০ বলে ৪৬ রান করে আউট হয়ে যান। এরপর শুভমান গিলও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেনি। দলীয় ৭৬ রানে ব্যক্তিগত ৩১ বলে ২৬ রান করে রোহিত শর্মার পথযাত্রী হন। তবে এই দুই ওপেনারকে হারিয়েও দমে যায়নি ভারত দলের রানের ধারা। বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস লায়ার সমানে ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছেন। কোহলি ১৪ বলে ৭ ও শ্রেয়াস ৯ বলে ২১ রানের বিধ্বংসি এক খেলা উপহার দিচ্ছেন। ভারতীয় দলের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০০ রান। এতে তাদের খেলতে হয়েছে ১৫.৪ ওভার। জিততে তাদের প্রয়োজন ১৭৪ রান। হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। তাদের ৩৪.২ ওভারে কারতে হবে এই রান।
এর আগে ভারত বিশ্বকাপে প্রথম চার ম্যাচে একাদশে জায়গা না হওয়া মোহাম্মদ শামি ফিরেই বোলিং ঝলক দেখালেন। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনেই মুখ থুবড়ে পড়ে নিউজিল্যান্ড।
৪০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ৪ উইকেটে ২১৯। স্লগ ওভারে চোখ ধাঁধানো বোলিং করে ফাইফার (৫ উইকেট) তুলে নেন শামি। ফলে পুরো ৫০ ওভার খেললেও নিউজিল্যান্ড অলআউট হয়েছে ২৭৩ রানে।
৬টি উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৫৪ রান তুলতে পেরেছে কিউইরা। তবু শেষদিকে ড্যারেল মিচেল কিছুটা রান বাড়িয়েছেন, বাকিরা কিছুই করতে পারেননি।
দুই দলই নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে জিতেছে। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। ভারত আর নিউজিল্যান্ডের লড়াইটি তাই এখন দাঁড়িয়েছে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার।
ধর্মশালায় গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে টস জিতেছে ভারত। প্রথমে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা।
অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে শুরুতেই কিউইদের চেপে ধরেন ভারতীয় বোলাররা। ১৯ রানের মধ্যে ২ উইকেট তুলে নেয় তারা।
মোহাম্মদ সিরাজের বলে ডেভন কনওয়ে শূন্য রানেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ২৭ বলে ১৭ করা উইল ইয়ংককে বোল্ড করেন মোহাম্মদ শামি।
তবে শুরুর সেই বিপদ দারুণভাবে কাটিয়ে ওঠেন রাচিন রাবিন্দ্র আর ড্যারেল মিচেল। ১৫২ বলে ১৫৯ রানের মারকুটে জুটি গড়েন তারা। অবশেষে ৩৪তম ওভারে এই জুটি ভেঙে স্বাগতিক শিবিরে স্বস্তি ফেরালেন মোহাম্মদ শামি।
শামির অফকাটারের লোভে পড়ে লংঅনে ছক্কা হাঁকাতে গিয়েছিলেন রাবিন্দ্র। শুভমান গিল নেন সহজ ক্যাচ। ৮৭ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ৭৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন রাবিন্দ্র।
এরপর টম লাথাম বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কিউই অধিনায়ককে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন কুলদ্বীপ যাদব। ৭ বলে ৫ করেন লাথাম।
তবে দেখেশুনে খেলে ১০০ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ড্যারেল মিচেল। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি ইনিংস। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মাঝে একটি প্রান্ত ধরে ছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
শেষ পর্যন্ত ইনিংসের এক বল বাকি থাকতে তিনি হন শামির শিকার। ১২৭ বলে ১৩০ রানের ইনিংসে ৯টি বাউন্ডারি আর ৫টি ছক্কা হাঁকান মিচেল।
শামি ৫৪ রান খরচায় নেন ৫টি উইকেট। ২টি উইকেট শিকার কুলদ্বীপ যাদবের।