২৪ ঘণ্টায় ১১ লাখ ফিলিস্তিনির স্থানান্তর চায় ইসরায়েল আকসা চত্বরে বিক্ষোভের ডাক হামাসের

২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলীয় ১১ লাখ মানুষের সবাই যেন বাড়িঘর ছেড়ে সরে যায়, ইসরায়েল এমনটি চাইছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর: বিবিসি’র। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জাতিসংঘকে বলেছে, গাজা উপত্যকার উত্তরের সবাই যেন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ গাজায় স্থানান্তর হয়। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মুখপাত্রেএ তথ্য জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য মতে, উত্তর গাজায় অন্তত ১১ লাখ মানুষ রয়েছে, যা গাজা উপত্যকার গোটা জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেক। গাজা ও জেরুসালেমের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় এই জরুরি আহ্বান জানায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। ২৪ ঘণ্টায় এত বড় জনগোষ্ঠীর স্থানান্তরকে ‘অসম্ভব’ বলা হয়েছে জাতিসংঘের মুখপাত্রের বিবৃতিতে।
ইসরায়েল স্থলপথে বড় ধরনের আগ্রাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, এরই অংশ হিসেবে লোকজনকে সরে যেতে বলছে। এরই মধ্যে গাজা সীমান্তে ভারী ভারী যুদ্ধ সরঞ্জাম ভিড়িয়েছে ইসরায়েল। সেনা মোতায়েনও করেছে লাখ লাখ।
শনিবার ভোরে ইসরায়েলে হামাসের উপর্যুপরি রকেট হামলার পরই দুপক্ষের সংঘাত শুরু হয়। গাজায় এক হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি এবং অন্যদিকে এক হাজার ৩০০ জনের বেশি ইসরায়েলি এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন। দেড় শতাধিক ইসরায়েলিকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস। তবে হামাস এ সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।
আল আকসা চত্বরে হামাসের বিক্ষোভের ডাক: ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীর এলাকার সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে হামাস। বিক্ষোভ সমাবেশের স্থান হিসেবে পবিত্র আল আকসা মসজিদ চত্বরের নাম উল্লেখ করেছে এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী।
শুক্রবারের বিবৃতিতে আল আকসা চত্বরে বিক্ষোভের পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ ফিলিস্তিনিদেরকে লড়াইয়ের আহ্বানও জানিয়েছে হামাস।
মুসলিমদের কাছে মক্কার কাবা এবং মদিনার মসজিদের নববির পর তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল আকসা। আবার এই মসজিদ চত্বরের অদূরেই অবস্থিত ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান টেম্পল মাউন্ট। ২০২১ সালের মে মাসে আল আকসা চত্বরে বিক্ষোভ ও তার জেরে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের সংঘাত ঘিরে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল হামাস ও ইসরায়েল। ১১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া সেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটেছিল মিসরের মধ্যস্থতায়। তার ২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার ফের ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে হামাস।
সেদিন ভোররাতে ইসরায়েলে অতর্কিতে হামলা ও অনুপ্রবেশ করে নির্বাচারে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে হামাসের যোদ্ধারা। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গাজা উপত্যকায় ওই দিনই বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ দিনে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৬ হাজার বোমা ফেলা হয়েছে।
দু’পক্ষের যুদ্ধে শনিবার থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই নিহতদের মধ্যে ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন ১ হাজার ৩ শতাধিক, আর গাজা ভূখণ্ডে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫ শতাধিক মানুষ।