অ্যাপের ঋণে প্রতারণার জাল
* প্রতারকদের টার্গেট সাধারণ মানুষ তানভীর হাসান জোহা, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ * অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে অভিযান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন, পরিচালক (মিডিয়া) র্যাব
কোনো প্রকার জামানত ছাড়া খুব সহজেই পেয়ে যাবে ঋণ। অনলাইনভিত্তিক অ্যাপের ম্যধ্যমে ঋণ সেবা চালু করেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়া অ্যাপে নাম নিবন্ধন করে পেয়ে যাচ্ছে ঋণ। এমন লোভনীয় অফারে ঝুঁকছে বেকার যুবকরা। জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধন করলে সব তথ্য চলে যাচ্ছে প্রতারকদের হাতে। এর পর তারা প্রথম ধাপে কিছু ঋণ দিলেও নিচ্ছে চড়া সুদ। দ্বিতীয় ধাপে মোটা অঙ্কের ঋণ দেবে বলে জামানত নেন। এর পর গ্রাহকরা দ্বিতীয় বার ঋণ না পেয়ে খোয়াচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। অ্যাপস থেকে ঋণ নেয়ার বিষয়টি জানে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা বলছে, কোনো প্রকার অনুমোদন দেয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এ ধরনের কার্যক্রম দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লাইকিসহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেন। মানুষ তাতে সাড়াও দিচ্ছেন। কেউ কেউ চড়া সুদে ঋণও পাচ্ছেন। ফানডোরা ক্রেডিট, টাকাওয়ালা, ক্যাশম্যান, এস ম্যানেজার, ইনস্ট্যান্ট স্যালারি ডটকম, ফার্স্টক্যাশ, ক্যাশবক্স, গাইডলোন, ক্যাশক্যাশসহ বিভিন্ন নামে রয়েছে অ্যাপ। ডাউনলোড করলেই সকল তথ্য চলে যায় প্রতারকদের হাতে। প্রথমে নাম মাত্র ঋণ দিলেও কিছুদিন পর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে প্রতারকের আসল চেহারা। এখন অ্যাপে তাদের কোনো ঠিকানা ব্যবহার করে না। আবার যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সেটা ভিন্ন দেশের নম্বর। তাই প্রতারণার শিকার হলে তাদের ধরার কোনো উপায় থাকে না। কারো সঙ্গে কথা বলার সুযোগও নাই।
এদিকে অনলাইন শপিং অ্যামাজান নামের আরেকটি অ্যাপে নতুন প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অ্যাপে মাধ্যমে অনলাইনের আড়ালে প্রতারণার জাল ফেলছেন তারা। এরা মানুষের বিকাশ কিংবা নগদ নম্বর হ্যাক করে সব টাকা নিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, ঘরে বসে কাজ করা যাবে। অনলাইন শপিং এর কাজ করে ঘণ্টায় আয় করা যাবে ২০ ডলার থেকে ১২৫ ডলার পর্যন্ত। তাছাড়া একাউন্ট খোলা হলে পাবেন ১০০ ডলার পর্যন্ত বোনাস। লোভনীয় অফার দেখে মাসে লাখ টাকা আয়ের জন্য খোলা হচ্ছে একাউন্ট।
জানা যায়, ১০,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ঋণ দেয় এসব অ্যাপস, যা ৩৬৫ দিনের মধ্যে পরিশোধের শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। তবে, যারা প্রথম ১০ হাজার টাকা ঋণ চাহিদা দিলে, ৩১৫০ কেটে রেখে গ্রাহককে দেবে ৬৮৫০ টাকা। এভাবে তারা ঋণ দিয়ে থাকেন।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় বসবাস করেন মশিউর রহমান। মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। অনলাইনে এই অ্যাপে মাধ্যমে তিনি খুব সহজেই টাকা পাবে বলে একাউন্ট করে ২০ হাজার টাকার চাহিদা দিলে ৬৩০০ টাকা কেটে রেখে বাকী টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেন। এরপর হঠাৎ করে এক মাস পরে ওই বিকাশ নম্বরে মশিউর রহমানের এক আত্মীয় ২০ হাজার টাকা পাঠান। কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই অ্যাপে পুরো টাকা কেটে নেয়া হয়।
প্রতারণার স্বীকার আল-আমীন নামে একজন বলেন, কাস্টমার যদি পেমেন্ট না দিতে পারে সেক্ষেত্রে উল্টা-পাল্টা ছবি বানিয়ে হোয়াটস অ্যাপে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। তখন তারা বেশি টাকা চাইলে দিতে বাধ্য হয় গ্রহক।
ফানডোরা ক্রেডিট অ্যাপের কাস্টমার কেয়ার সুনাহা নামের একজন বলেন, এটা অনলাইন ঋণ কার্যক্রম।