শ্রম আইন সংস্কারের তাগিদ ইইউ’র

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় কমিশনে বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে শ্রম আইন সংস্কার এবং শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। গত বুধবার গুলশানের রেনেসাঁ হোটেলে ঢাকা চেম্বার্স কর্তৃক আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চার্লস হোয়াইটলি বলেন, জিএসপি সুবিধার মেয়াদ বাড়াতে এবং ইউরোপের সরাসরি বিনিয়োগ বাড়াতে শ্রম আইন সংস্কার করতে হবে। গত ৮ বছরে ইউরোপ থেকে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ এসেছিল বাংলাদেশ। তবে এটা আরো বেশি হতে পারতো বলে মনে করছেন তিনি। সামনে এ বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে ইউরোপ।

হোয়াইটলি বলেন, বাণিজ্য বাংলাদেশ-ইইউ’র বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটবে, যা ইবিএ’র (অস্ত্র ছাড়া সব পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার) অধীনে বাংলাদেশ উপভোগ করত। পরবর্তী সুবিধা জিএসপি প্লাস পেতে হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী শ্রম আইন সংশোধন করতে হবে। কারণ শ্রম আইন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং কমিশনের জন্য এই বাণিজ্য ব্যবস্থার অধীনে বাংলাদেশের আবেদন বিবেচনা করার জন্য একটি অপরিহার্য উপাদান হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়ে একমত পোষণ করেছে, যা জিএসপি প্লাস পাওয়ার প্রধান চালক হবে। আমরা শ্রম আইন সংশোধনের বিষয় নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছি। আশা করছি, একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মানদণ্ড মেনে ত্রিপক্ষীয় অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইনটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিয়ে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। এখানে ব্যাংকিং সমস্যাসহ নানা ধরনের সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। রানা প্লাজার পর আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এখানে ৪০ মিলিয়ন মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ভালো পর্যায়ে রয়েছে। সুতরাং ভোক্তাদের বিশাল বাজার সৃষ্টি হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিংসহ অন্য সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছি। এক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার কমতি নেই। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে কেউ ঠকবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিডিআর চেয়ারম্যান ও লোকমান হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের ইউরোপের বিনিয়োগ বাড়াতে এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন করা যেতে পারে। আর এজন্য তিনি বিনিয়োগের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান।

ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার বলেন, বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত অব্যাহত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাদুকা, হিমায়িত খাদ্য, কৃষিজাত পণ্য আমদানির জন্য ইইউ’র প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগে ইউরোপীয় কোম্পানি চ্যালেঞ্জ’ ও ‘জিএসপি প্লাসের পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীরা অংশ নেয়। প্যানেল আলোচনায় এয়ারবাসের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ মোরাদ বৌরোফেলা বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ভুল ধারণা আছে। এটি দূর করতে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে নজর দিতে হবে।

রাজধানীর গুলশানের এক হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। ইইউ-ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে। ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া।