নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ইচ্ছা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে মাথ্যু মিলার বলেন, বাংলাদেশীরা চায় শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, যা যুক্তরাষ্ট্রও চায়। বাংলাদেশের সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম সবাই চায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হোক, যেমনটা আমরা চাই।

ভিসানীতির উদ্দেশ্য বাংলাদেশের জনগণের স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচনের আকাঙ্খাকে সমর্থন করা বলে জানান তিনি। ম্যাথু মিলার বলেন, আমি শুধু বলব যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন করে না এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে চায় না। শুধু নিশ্চিত করতে চায় যে বাংলাদেশের জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের নেতা নির্বাচন করতে পারে।

মিডিয়ার ওপর সম্ভাব্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে আবারো প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। সপ্তাহ খানেক আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মার্কিন ভিসা নীতিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমও যুক্ত হবে।

সেখানে বলা হয়, পিটার হাসের বিবৃতিকে বিরোধীদের পাশাপাশি কট্টরপন্থীরা স্বাগত জানিয়েছে। এরই মধ্যে গণমাধ্যমের ব্যক্তিরা হুমকি পেয়েছেন, উগ্র মতবাদের সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের তালিকাও প্রচার হচ্ছে। এছাড়া রাষ্ট্রদূতের বিবৃতিকে নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রচারক, সম্পাদক, সাংবাদিক, লেখক, সংখ্যালঘু নেতারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। এ প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়, ‘আপনি কি রাষ্ট্রদূতের বিবৃতিকে সমর্থন করেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ জাতিকে সমর্থনকারী এত বড় উদারপন্থী গোষ্ঠীর উদ্বেগকে সরাসরি অস্বীকার করেন?’

ম্যাথু মিলার বরাবরই মতো সুর্নিদিষ্ট কোনো উত্তর না দিয়ে ভিসা নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে দুই ভাগে বিভক্ত দলগুলো। বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট বর্তমান সরকারের অধীনে সংবিধান মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বৈদেশিক শক্তিগুলোর তৎপরতা। কূটনৈতিক তৎপরতার দিক থেকে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট ও সুষ্ঠু ভোটে যারা বাধা দেবেন তাদের ওপর ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৪ মে বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বা জড়িত বাংলাদেশিদের ভিসা দেবে না দেশটি। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।