চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মোশাররফ হোসেন এমপির অনুসারীদের হামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের ১১ অনুসারী আহত হয়েছেন । হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মিরসরাই সদর ইউনিয়নের সুফিয়া রোডস্থ নুরজাহান কমিউনিটি সেন্টারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওই কমিউনিটি সেন্টারে নিজের সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন।
গিয়াস উদ্দিনের দাবি, মিরসরাই সংসদিয় আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী মিরসরাই ৯ নং সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শামসুল আলম দিদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাসুদ করিম রানার নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় আহতরা হলেন, ৩ নং জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের হৃদয় (৩০), সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী সরোয়ার (৩৫) , ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল (২৬) ,১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নের যুবলীগ কর্মী পলাশ (৩০) , মিরসরাই উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল (৪৫) , ১০ মিঠানালা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য নুরুল বাকি (৪৫) , নিজামপুর কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রনী (২৮), মিরসরাই পৌরসভার যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম (৪৫) মিরসরাই পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড সাবেক কমিশনার রহিমুল্লাহ (৫২), ৭ নং কাটাছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার সবুজ (৫৫) । আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন দৈনিক দেশ বর্তমানকে জানান, আমি একজন দেশনেত্রী শেখহাসিনার কর্মী হিসেবে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে কাজ করার জন্য প্রনোদনা মুলক সমাবেশের আয়োজন করি। সমাবেশে শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় এমপির অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে নারী পুরুষ সহ ১৫ নেতা কর্মী আহত হয়। আহত নেতাকর্মীরা বিএনপি বা জামায়াতের অনুসারী নয়। এরা সবাই আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ দেশ নেত্রী শেখহাসিনার কর্মী। হামলার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা শেষে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ করিম রানা এবং শামসুল আলম দিদারের নেতৃত্বে হামলার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন- ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাহিদুল হাসান, ৯ নং সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সলিম মেম্বার, ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ুন কবির, ইউনুস, রাসেল ও আজাদ রুবেল।
হামলার ঘটনায় ৯ নং ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম দিদার জানান, আমরা হামলা করার জন্য সেখানে যাইনি। তাদেরকে বলেছি আমাদের বাদ দিয়ে কোনো অনুষ্ঠান না করতে। পরবর্তীতে আমাদেরকেসহ নিয়ে বড় করে সমাবেশ করতে। তাদের কারা কেন আহত হয়েছেন আমরা জানি না।
এ বিষয়ে জানতে মিরসরাই থানা ওসি কবির হোসেন কে ফোন করে পাওয়া যায়নি। তবে ডিউটি অফিসার জানান হামলার ঘটনায় ওসি সহ থানার ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।