৫১তম জশনে জুলুস বৃহস্পতিবার—এবারও নেতৃত্ব দেবেন সৈয়দ তাহের শাহ

আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে ৫১তম জশনে জুলুস আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি বন্দর নগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের সর্র্ববৃহৎ জশনে জুলুসে এবার অর্ধকোটির বেশি মানুষের সমাগম আশা করছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যে রূপ নেওয়া এই জুলুসে নেতৃত্ব দেবেন দরবারে আলিয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরিফের হুজুর কেবলা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (ম জি আ)। এ নিয়ে ৩৫ বারের মতো জুলুসের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছেন এই প্রধান অতিথি। এবারের জুলুস গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ডে স্থান পাওয়ার আশা করছেন আয়োজকরা। উপস্থিত থাকবেন সাজ্জাদানশিন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (ম জি আ) ও শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ (ম জি আ)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, আঞ্জুমানের সেক্রেটারি জেনারেল আনোয়ার হোসেন।

এসময় তিনি বলেন, আরবি মাসের ১২ রবিউল আউয়াল সমগ্র পৃথিবীতে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দিনটিকে যথাযত মর্যাদায় উদযাপন করবে। এমনকি দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশের বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোও এদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন রয়েছে। দিনটিতে যুগ যুগ ধরে সাধারণ ছুটিও বটে। তবে, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে উদযাপিত মিলাদুন্নবী (স.) মাহফিলের প্রধান আকর্ষণ হলো ‘জশনে জুলসের’ নামক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা দিন দিন সমগ্র বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে।

রবিউল আউয়াল মাসে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতোমধ্যেই শত শত স্বাগত জুলস বের করেছে এবং মাসব্যাপী হতে থাকবে। তবে, আমরা সবাই জানি যে, শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় জশনে জুলুসটি প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে বের হয় চট্টগ্রামে। এর আয়োজক সংস্থা হিসেবে কাজ করছে আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এবং সার্বিক সহযোগিতা করে গাউসিয়া কমিটি বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, এটিই বাংলাদেশের মাটিতে প্রথম সূচনাকারী জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী।

এই সেক্রেটারি জেনারেল আরও জানান, ১৯৭৪ সাল (১৩৯৪ হিজরি ১২ রবিউল আউয়াল) থেকে এর সূচনা হয় রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধস্তন বংশধর, গাউসে জামান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহর (রহ.) দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে। তাঁর নির্দেশনা অনুসারে চট্টগ্রামের বলুয়ারদীঘি পাড় খানকাহ্ শরীফ থেকে আনজুমানের তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নূর মোহাম্মদ আল কাদেরীর নেতৃত্বে যে জুলুসটি চট্টগ্রাম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে এসে সমাপ্ত হয়। সেটিই বাংলাদেশে বর্তমান অনুষ্ঠিত হাজার হাজার জশনে জুলুসের মডেল এবং অনুপ্রেরণা। অবশ্য একই দিন, ঢাকাস্থ আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কর্তৃপক্ষও পুরান ঢাকার কায়েতটুলী খানকাহ শরীফ থেকে জশনে জুলুস বের করেছিল। যা হোক, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জশনে জুলুস’র প্রতিষ্ঠাতা রূপকার আল্লামা তৈয়ব শাহ্ হুজুর স্বয়ং ১৯৭৬ সনে চট্টগ্রামের জশনে জুলুসে নেতৃত্ব দেন এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রভাবে জশনে জুলুস পায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। এভাবে ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত গাউসে জামান তৈয়ব শাহ্ হুজুরের নেতৃত্বে জশনে জুলুস জনসমুদ্রে রূপ নিতে থাকে। ১৯৮৭ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশে আর আসেননি। এরপর থেকে জশনে জুলুসের নেতৃত্বে আসেন তাঁরই সাজ্জাদানশীন হুজুর কেবলা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। মাঝখানে কয়েকবার ছাড়া অন্তত ৩৪টি জুলুসের নেতৃত্বে ছিলেন হযরত আল্লামা তাহের শাহ্ হুজুর। এবার হবে তাঁর ৩৫তম নেতৃত্ব, এবং এবারের জুলুসটি হবে ৫১তম আয়োজন। ইনশাআল্লাহ, এবারও গতবারের ৫০তম জুুলুসের মতো, তাঁর সাথে থাকবেন দরবারে আলীয়া কাদেরিয়া সিরিকোট শরীফের অপর সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ্ মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এবং শাহজাদা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্।

চট্টগ্রামের এই জশনে জুলুস অন্যতম সাক্ষী। বিগত বছরগুলোতে, দেশের গণমাধ্যমের ভাষা অনুসারে এতে প্রায় অর্ধকোটি মানুষের সমাগম হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, সব কিছুুু ঠিক থাকলে এ বছর উপস্থিতি সংখ্যা আরও বাড়বে আশা করি। কারণ, এটি এখন চট্টগ্রামসহ বিশ্ব ঐতিহ্যে রূপ নিয়েছে। চট্টগ্রামের ইতিহাসে জশনে জুলুসে এক অবিচ্ছেদ্য কালচারের বহিঃপ্রকাশ। এখানকার মানুষ এক জুলুস শেষ হতেই পরবর্তী বছরের জুলুসের অপেক্ষায় থাকে। সাধারণ মানুষ ও আশেকে রাসুলরা চায়, এটি শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্য হিসেবে নয় বরং বিশ্ব ঐতিহ্য ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্থান পাক। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের জায়গা হলে তা চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশকেও সম্মানিত করবে।

হুজুর কেবলা আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ’র (মাঃ জিঃ আঃ) নেতৃত্বে, প্রধান মেহমান আল্লামা পীর সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাঃ জিঃ আঃ) ও বিশেষ মেহমান আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসিম শাহর (মাঃ জিঃ আঃ) অংশগ্রহণে পবিত্র ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীর (দ.) জশনে জুলুস ২০২৩ ইং এবার জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন আলমগীর খানকাহ-এ কাদেরিয়া সৈয়দিয়া তৈয়বিয়া থেকে সকাল আটটায় শুরু হবে। বিবিরহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুল, কাতালগঞ্জ, চকবাজার অলিখাঁ মসজিদ, প্যারেড মাঠের পশ্চিম পাশ হয়ে চট্টগ্রাম কলেজ, গণিবেকারি, খাস্তগীর স্কুল, আসকার দীঘি, কাজীর দেউড়ি, আলমাস, ওয়াসা, জিইসি, দুইনম্বর গেট হয়ে জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে মাহফিলে আসবে। জোহর নামাজের পর দোয়া ও মোনাজাত দিয়ে সম্পন্ন জুলসের হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আঞ্জু ট্রাস্টের এডিশনাল সেক্রেটারি শামসুদ্দিন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান পেয়ার মোহাম্মদ, জামেয়ার অধ্যক্ষ মুফতি আব্দুল আলীম রিজভী, জামেয়া মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান আবু ইয়াহিয়া মোহাম্মদ মহসিন, গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার, গাউছিয়া কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্, উত্তর জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাবিব উল্লাহ, ট্রাস্টের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল আলম, অর্থ সম্পাদক এনামুল হক বাচ্চু, জুলুস মিডিয়া কমিটির কো-অর্ডিনেটর দিলশাদ আহমেদ, আবু তালেব বেলাল প্রমুখ।