ফাঁকা পড়ে আছে আড়ত, চড়া দামে বিক্রি খুচরায়

সরকার নির্ধারিত দামে পোষাতে না পেরে আলু বিক্রি বন্ধ

কৃষিপণ্যের লাগামহীন দামের ঊর্ধগতি ঠেকাতে ও বাজার নিয়ন্ত্রণে মোট তিনটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এরমধ্যে আলু অন্যতম। সাথে রয়েছে ডিম ও পেঁয়াজ। সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে আলু ৩৫-৩৬ টাকা বিক্রির কথা থাকলেও পাইকারিতেই বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায়।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় আলুর বর্তমান খুচরা মূল্য ৪০-৪৫ টাকা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাজার ভেদে দাম হাঁকা হচ্ছে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা পর্যন্ত। সরকার নির্ধারিত দাম যেন মানছে না কেউই।

সরকার নির্ধারিত দাম না মেনে অতিরিক্ত দামে আলু বিক্রি করায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে। নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজারে বাজার করতে আসা ক্রেতা মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকার কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে শুনে খুশি হয়েছিলাম। তবে এখন দেখছি দাম শুধু কাগজ-পত্রে কম। আমাদের এখনো বাড়তি দামেই পণ্য কিনতে হচ্ছে।

এইদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা দায় চাপাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ি ও আড়তদারদের উপর। তাদের দাবি আড়তদাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে ৮-১০ টাকা বেশি দামে পণ্য ছাড়ছেন। আর তাই খুচরা পর্যায়ের আলুর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০-৫০ টাকায়।
নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজারের খুচরা ব্যাবসায়ী মোহাম্মদ এরশাদ দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, আমার দোকানে আলুর কেজি ৪৫ টাকা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামের বিক্রি করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৪৫ টাকায় আলু বিক্রি করলেও লাভ খুব একটা বেশি হচ্ছে না। আড়ত থেকে ৩৮ টাকা ধরে আলু এনেছি। সাথে আনুষঙ্গিক খরচ ছিল আরও ৫ টাকা। এখন যদি কেজি প্রতি ২-৪ টাকা লাভ করতে না পারি তবে পরিবার নিয়ে টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়বে।

এদিকে খুচরো বাজারে আলুর দেখা মিললেও ফাঁকা পড়ে আছে রিয়াজুদ্দিন বাজারের প্রায় সবকটি আড়ত। খবর নিয়ে জানা যায়, সরকার নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি করে পোষাতে না পেরে আড়তদাররা আলুর ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ রেখেছেন।

এ নিয়ে শঙ্কিত বাজারের খুচরা ব্যাবসায়ীরা। খোরশেদ আলম নামের এক খুচরা ব্যাবসায়ী বলেন, আমি ২ দিন আগে আড়ত থেকে ৩৮ টাকা দরে আলু কিনেছিলাম। তবে বর্তমানে আমার দোকানে আলু শেষের দিকে। আজকে শেষ হয়ে গেলে কাল থেকে কি বিক্রি করবো জানি না। খবর পেয়েছি আড়তদাররা আলু বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

জানা যায়, আলুর দাম নির্ধারণে সব চাইতে বড় সিন্ডিকেট মুন্সীগঞ্জ। আড়তদাররা বলছেন, মুন্সীগঞ্জ থেকেই আলুর দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়। চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দাবি তারা শুধু নামমাত্র কমিশনে আলু বিক্রি করেন।

আড়তদাররা আলু বিক্রি বন্ধ রাখা প্রসঙ্গে রিয়াজুদ্দিন বাজার আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক শিবলী দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, সরকারের নির্ধারণ করা দামে আড়তদাররা কোনোভাবেই পোষাতে পারছে না। মুন্সীগঞ্জ থেকে আলু আমাদের হাতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮-৪০ টাকা। তবে সরকার বলছে পাইকারিতে ৩০ টাকার বেশি আলু বিক্রি করা যাবে না। আর তাই সরকারের প্রতি সম্মান রেখে খরচ পোষাতে না পেরে আলুর ক্রয়বিক্রয় বন্ধ রেখেছি।

দেশ বর্তমান/এইচএস/এআই