নারী গরু চুরি করতে পারে বিশ্বাস করতে চাননা ওসি কবির হোসেন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আলেয়া বেগম (৫২) নামে গরু চোর সিন্ডিকেটের এক নারী সদস্যকে তথ্যপ্রমাণসহ আটক করেছে স্থানীয়রা। কিন্তু মিরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন নারী গরু চুরি করতে পারে তা বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফলে ওই নারীকে থানায় হেফাজতে না নেওয়ায় বেকায়দায় পড়েছেন মিঠাছড়া বাজারের ইজারাদার ও বাজার কমিটি।

শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে গরু চুরির সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণসহ ওই নারীকে আটক করা হয়। আটকৃত নারী বর্তমানে মিঠাছড়া বাজার ইজারাদার অফিসের রয়েছেন।

জানা যায়, তথ্যপ্রমাণসহ ওই নারীকে আটক করার পর বাজার ইজারাদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মিরসরাই থানার ওসি কবির হোসেনকে অবহিত করলে তিনি এসআই সুমন ও এসআই আতাউরকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তারা ঘটনাস্থলে এসে ওই নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গরু চুরির সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু ওসি কবির হোসেনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ওই নারীকে হেফাজতে নেয়নি পুলিশ।

এদিকে দিনশেষে রাত ঘনিয়ে এলেও ওই নারী ইজারাদার কার্যালয়ে আটক থাকায় বিকাদায় পড়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে ওসি কবির হোসেনের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘কই এই ধরণের কিছু তো আমি জানি না। নারী গরু চুরি করতে পারে এটা আমার বিশ্বাস হয় না।’ এ বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিন শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নং শ্রীপুর নিজামুদ্দিনের পুকুরপাড়স্থ ভাড়া ঘর থেকে তাকে আটক করা হয়। আলেয়া বেগম ১০ নং মিঠানালা ইউনিয়নের তাহের চেয়ারম্যান বাড়ির বাসিন্দা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কৃষক জসীমউদ্দিন প্রকাশ সানাউল্লাহ তার গাভিটি বাড়ির পাশের রাস্তায় বেঁধে ব্যক্তিগত কাজে ইউনিয়ন পরিষদ চলে যান। কাজ সেরে বিকাল ৪টায় বাড়ি ফেরার পথে দেখেন গরুটি নেই। পরে জানতে পারেন মিঠানালার বাসিন্দা নুরুল আলমের ছেলে ফখরুল ইসলাম (২৮) ওই গরুটি মিঠাছড়া বাজারের গরু ব্যবসায়ী আমিন শরীফকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। দ্বিগুণ মূল্যের গরুটি অর্ধেকে বিক্রি হওয়ায় বাজার ইজারাদারের সন্দেহ হয়। পরে গরু ব্যবসায়ী আমিন শরীফকে চ্যালেঞ্জ করলে সে গরুটি আলেয়া বেগমের বলে জানায়। গরুটি আলেয়া বেগমের কিনা জানতে ফোন করলে বাজার ইজারাদার কার্যালয় এসে জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় ছোট ভাই ফখরুল ইসলামের মাধ্যমে বিক্রি করার জন্য বাজারে পাঠায়। এ সময় বাজার ইজারাদার ও বাজার কমিটি আলেয়া বেগমের অসুস্থতার কথা শুনে মানবিক কারণে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার টাকা তুলে দেন। পরে গরু ব্যবসায়ী আমিন শরীফ একই বাজারে তালবাড়িয়ার মনোমোহর ত্রিপুরার কাছে ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

গরুর মালিক কৃষক জসীমউদ্দীন প্রকাশ সানাউল্লাহ গরুটি হন্যে হয়ে খুঁজতে খুঁজতে মনোমোর ত্রিপুরার বাড়িতে গিয়ে তার গরুটি শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বাজার কমিটি ও বাজার ইজারাদারকে জানালে সকলে সম্মিলিতভাবে গরুর মালিক দাবি করা আলেয়া বেগমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ সময় আলেয়া বেগম জানান, তাকে ফখরুল ইসলাম যেভাবে শিখিয়ে দিয়েছিলেন সেভাবেই বাজার ইজারাদারকে জানিয়েছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হাই, আনোয়ার, তাজউদ্দিনসহ ইজারাদার ও বাজার কমিটির উপস্থিতিতে পুলিশের হাতে সোপর্দ করলেও পুলিশ হেফাজতে নেয়নি।

এই সংবাদ লেখার সময় আলেয়া বেগম মিঠাছড়া বাজার কমিটির হেফাজতে থাকতে দেখা যায়।