কে হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, আলোচনায় ৬ নাম

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী অবসরে যাচ্ছেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শূন্য হচ্ছে প্রধান বিচারপতির পদ। শিগগির এ পদে নতুন নিয়োগ দেয়া হবে। চলতি মাসের ৩১ আগস্ট প্রধান বিচারপতি হিসেবে হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর শেষ কার্যদিবস। ফলে এ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে কে হচ্ছেন ২৪ তম প্রধান বিচারপতি। বিচারাঙ্গণে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের মধ্যে কৌতুহলের কোনো শেষ নেই। নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাইসহ চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এসব বিশ্লেষণ শেষে সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন।

নিয়ম অনুযায়ী আপিল বিভাগে কর্মে জ্যেষ্ঠ বিচারপতিই নিয়োগ পাবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি। এ হিসেবে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর পর কর্মে প্রবীণ আপিল বিভাগের বিচারপতি হচ্ছেন মো. ওবায়দুল হাসান। তিনি দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন বিচারাঙ্গনে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী মানুষের কাছে এটিই প্রতিষ্ঠিত। তার পরপরই কর্মে প্রবীণ বিচারপতি রয়েছেন বোরহানউদ্দিন। পরবর্তী ৪ বিচারপতির মধ্যে কর্মে প্রবীণ বিচারপতিগণ হলেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো: আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি মো: আবু জাফর সিদ্দিকী এবং বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম।

সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাঁদের মধ্য থেকে ‘যোগ্য বিবেচিত’ যে কাউকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। অনুচ্ছেদে উল্লেখিত বিধানটি হচ্ছে, প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্যকোনো কারণে প্রধান বিচারপতি তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলে রাষ্ট্রপতির কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হলে ক্ষেত্রমতে অন্য কোনো ব্যক্তি অনুরূপ পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা প্রধান বিচারপতি স্বীয় কার্যভার পুনরায় গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারকের মধ্যে যিনি কর্মে প্রবীণতম, তিনি অনুরূপ কার্যভার পালন করবেন।

সে হিসেবে এটি প্রতীয়মান হচ্ছে যে, বিচারপতি ওবায়দুল হাসানই-এ পদে নিয়োগযোগ্য। ফলে দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার নামটিই আলোচিত হচ্ছে বেশি। তাঁর ক্যারিয়ারও বর্ণাঢ্য। বর্তমানে আপিল বিভাগের ২ নম্বর বেঞ্চটির বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘অনুসন্ধান কমিটি’র সুপারিশে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস, এমএসএস ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ১৯৮৬ সালে জেলা আদালত, ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৯ সালের ৩০ জুন তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি এবং ২০১১ সালের ৬ জুন স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এই বিচারপতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হলে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের কোনো বিতর্ক উঠবে না। যেকোনো দিন প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হলেও এ নিয়োগ কার্যকর হবে শপথ গ্রহণের মুহূর্ত থেকে।

সংবিধানের এ অনুচ্ছেদের বাইরেও আরেকটি রেওয়াজ সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। সেটি হচ্ছে, সুপার সিডেড বা জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন। গত দেড় দশকে বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘিত হয়েছে বহুবার। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীকে ডিঙিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া। ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হলে মোহাম্মদ ইমান আলী আর এজলাসে বসেননি। এর আগে ২০১৮ সালে ২ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আব্দুল ওয়াহাব মিঞাকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি করা হয় বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে। তবে পরপর ৪ বার জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের শিকার হলেও পঞ্চমবার প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন বিচারপতি ফজলুল করিম।

তবে বহুল চর্চিত জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঘটলে প্রধান বিচারপতির আসনে বসতে পারেন আপিল বিভাগের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বোরহানউদ্দিন। এরপর আপিল বিভাগের তৃতীয় জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। রাষ্ট্রপতি ‘যোগ্য বিবেচনা’ করলে তিনিও নিযুক্ত হতে পারেন বাংলাদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি। ধারণা করা হচ্ছে, এই ৩ জনের মধ্য থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে ‘যোগ্য বিবেচিত’ বিচারপতিই দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হবে। কিন্তু কবে নাগাদ রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ চূড়ান্ত করবেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি বঙ্গভবন ও আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে রাষ্ট্রপতি যেকোনো দিন নিয়োগপত্রে স্বাক্ষর করতে পারেন বলে সূত্র উল্লেখ করেছে।

দেশ বর্তমান/এআই