র্যাম্প ছাড়াই চট্টগ্রাম নগরীর প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে খুলে দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝে ওঠা-নামার সংযোগ পথ বা র্যাম্প ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এর সুফল পুরো মিলবে না।
বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বোর্ড সভায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটির নাম প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নামে করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
এখন পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হয়েছে ৮০ শতাংশ। উদ্বোধনের বাকি আড়াই মাস। ইতোমধ্যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পতেঙ্গা থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত গাড়ি চলাচলের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। সল্টগোলা থেকে বারেক বিল্ডিং পর্যন্ত এলাকার কাজ শেষ পর্যায়ে।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএ বলছে ‘জনদুর্ভোগ কমাতে’ র্যাম্পের কাজ শুরু হবে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল অংশের কাজ শেষ হওয়ার পর। আগামী বছর জুনে র্যাম্পগুলো চালুর লক্ষ্য ঠিক করেছেন তারা।
নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ উড়াল সড়ক নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৪ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুনে শেষ করার সময় পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর সময় ঠিক করার বিষয়ে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, “কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে একে অন্যের পরিপূরক। অক্টোবরের শেষ দিকে টানেল উদ্বোধন করা হবে। তাই একই সময়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হওয়া জরুরি।
১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে র্যাম্প থাকবে ১৪টি। এর মধ্যে জিইসি মোড়ে একটি, টাইগারপাসে দুটি, আগ্রাবাদে চারটি, ফকিরহাটে একটি, নিমতলায় দুটি, সিইপিজেডে দুটি এবং কেইপিজেড এলাকায় দুটি র্যাম্প থাকবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল কাঠামোর কাজ শেষ না করে র্যাম্পের কাজ করা যাবে না। তাছাড়া র্যাম্পের কাজ শুরু হলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে যানজটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
র্যাম্প ছাড়াই নভেম্বরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, “আমাদের সড়কে এত জায়গা নেই যে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সাথে র্যাম্পের কাজও করা যাবে। একসাথে র্যাম্পের কাজও করতে পারলে সবারই ভালো হত। ’’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ ওমর ইমাম ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল কাঠামো ও র্যাম্প একসাথে করার কথা পরিকল্পনায় ছিল। এখন র্যাম্প ছাড়া চালু হলে পুরোপুরি সুফল মিলবে না। ’