রাজবাড়ীতে সাপের কামড়ে স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু

তিন হাসপাতাল ঘুরেও বাঁচানো গেলনা

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় সোমবার (২১ আগস্ট) গভীর রাত ২টার দিকে সাপের কামড়ে এক স্কুল ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।  মারা যাওয়া স্কুল ছাত্রী শেফা (১৩) উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের মেয়ে।

সে শহীদ খবিরুজ্জামান উচ্চ বিদ‍্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ বিষয়ে বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সজিব হোসেন বলেন, শেফা ঘুমানোর জন্য মশারির টানানোর সময় একটি সাপ শেফার পিঠে কামড় দেয়।  তার চিৎকারে পরিবারের সদস‍্যরা এগিয়ে এসে সাপটিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে।  পরে তারা সাপটি পিটিয়ে মেরে ফেলে।

শেফার ফুপাতো ভাই রাশেদ হাসান বলেন, ‘প্রথমেই শেফাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান যে, তাদের কাছে অ্যান্টিভেনাম নেই।  তাদের পরামর্শে শেফাকে রাত ৪টায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।  বাইরের একটি ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিভেনম কিনে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের চিকিৎসক শেফাকে অ্যান্টিভেনম দেয়।  এর কিছু সময় পর তাকে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেয়। ’

‘অক্সিজেন চলার মাঝেই সে বমি করছিল।  তখন আমরা ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসি।  তারা দেখে বলেন, অবস্থা খারাপ মনে হচ্ছে, রোগীকে ঢাকা অথবা রাজশাহীতে নিয়ে যান।  ডাক্তার আমাদের আশ্বস্ত করেন, অ্যান্টিভেনম দেওয়া আছে, হয়ত কিছু হবে না। ’

‘সকালে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হই আমরা।  কুমারখালী উপজেলা পর্যন্ত শেফা ইশারায় কথা বলতে পারছিল।  সকাল ৯টায় খোকসা উপজেলায় পৌঁছালে ওর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।  তখন তাকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুজাউদ্দিন সোহাগ বলেন, ‘গতরাতে সাপের কামড়ের ১৩ বছর বয়সী কোনো রোগী হাসপাতালে আসেনি। ’