চট্টগ্রামে চন্দনাইশের জামিরজুরি রজবিয়া আজিজিয়া রহমানিয়া সুন্নিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের যোগসাজশে অবৈধ পন্থায় নামমাত্র পরীক্ষা নিয়ে পরিচালনা কমিটির সভাপতির সহযোগিতায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
শনিবার (১২ আগস্ট) গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য ও এলাকাবাসী, শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে।
মানববন্ধনে বক্তারা, নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত মাদ্রাসার বর্তমান উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, অদক্ষতা, ও খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলেন। তারা বলেন, এ ধরনের অযোগ্য, অদক্ষ ব্যক্তিকে নির্বাচিত সদস্যদের মতামত ও অনুমোদন ছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধিকে নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজসে অবৈধ পন্থায় নামমাত্র পরীক্ষা নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির সহযোগিতায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ গভর্ণিং বডির কোনো মিটিংয়ে তারা কোনদিন যাননি এমনকি কমিটির কোনো সদস্যও তাদেরকে এবং তারাও কাউকে চিনে না।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু ছৈয়দ নেজামীর প্রাতিষ্ঠানিক মূল পদ সহকারী অধ্যাপক (আরবি)। তিনি অবৈধভাবে সুপারিশ প্রাপ্ত মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন উপাধ্যক্ষ থেকে অধ্যক্ষ হলে শুন্য পদে নেজামীকে নিয়োগ পাওয়ার শর্তে সিরাজের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অন্যায়ভাবে কাজ করেছেন। এছাড়া মাদ্রাসার সভাপতি সরকারি বড় আমলা হওয়ায় অজানা কারণে তিনি ক্ষমতা এবং প্রভাব বিস্তার করে কমিটির কারো কাছ থেকে মতামত না নিয়ে একক ক্ষমতা বলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করেন।
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এনে অভিভাবকরা জোর আপত্তি জানালেও কোন প্রতিকার নাই। বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার জন্য আবেদন জানিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়।
মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় তার অযোগ্যতা, অদক্ষতা, ও খারাপ আচরণের জন্য আইনগত ব্যবস্থার নেওয়ার বিষয়ে গভর্ণিং বডির লিখিত আবেদন করে। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষায় দুইজন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অত্যন্ত সুক্ষভাবে, বিভিন্নভাবে অবৈধ তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগ লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে সিরাজ উদ্দিনকে সরবরাহ করেন। ভাইভা বোর্ডেও নামেমাত্র প্রশ্ন করে তাহাকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে গভর্ণিং বডির কাছে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে।
মানববন্ধন থেকে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিলের দাবি জানানো হয়। এছাড়া ১৪ আগষ্ট সাংবাদিক সম্মেলন, গণ্যমান্য পেশাজীবীদের গোল টেবিল বৈঠক, ১৬ আগষ্ট মাদ্রাসা সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী, ১৭ আগষ্ট অভিভাবক ও এলাকার সচেতন নাগরিকদের গণস্বাক্ষর গ্রহণ, ১৮ আগষ্ট গণমিছিল বিক্ষোভ সমাবেশ, ১৯ আগষ্ট ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক পক্ষ হতে অভিযোগ গ্রহণ, ২০ আগষ্ট হতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
মাদ্রাসা কমিটির অভিভাবক সদস্য কাজী মোহাম্মদ সৈয়দ নুর সভাপতিত্বে ও ইঞ্জিনিয়ার আবসার উদ্দীনের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ব্যাংকার হাবিবুর রহমান, নাছির উদ্দীন, মমতাজ উদ্দিন, মাদ্রাসা গভর্নিং বডির অভিভাবক সদস্য জাকের হোসেন সওদাগর, শরফত আলি, কাজী মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ।
এমএইচএফ