‘এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়’
ঘনিয়ে আসছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও নির্বাচন নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আছে উৎসাহ উদ্দীপনার পাশাপাশি শঙ্কা। তবে বিএনপি গত কয়েক বছর ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসলেও এবার তারা সরকারের পদত্যাগকেই তাদের চূড়ান্ত বা এক দফা দাবি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামেও বিএনপি কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী পালন করে আসছেন নিয়মিত। তবে এক দফা দাবি তথা সরকারের পদত্যাগের আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি।
দৈনিক দেশ বর্তমানের সাথে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলার তিন নেতা। তিনজনই এই সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি দাবি না মেনে নির্বাচন করলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি বিশ বছর ধরে নিচ্ছি কিন্তু এখানে তো ভোট নেই, ভোট সব ডাকাতি করে নিয়ে যায় তারা (আওয়ামী লীগ)। যেদিন নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে সেদিন আমাদের প্রস্তুতি সফল হবে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও এরা (আওয়ামী লীগ) ভোট ডাকাতি করবে, আমরা এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবো না।
তিনি বলেন, মূলকথা হচ্ছে দেশে যখন গণতান্ত্রিক নির্বাচন আসবে তখন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি বলে নগর আহ্বায়ক আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে আমরা নির্বাচনে যাব। তবে এই সরকারের অধীনে আমরা (বিএনপি) নির্বাচনে যাব না। আগামীতে এক দফা দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী বাস্তবায়নে দলের নেতা-কর্মিদের পাশে নিয়ে মাঠে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন বিএনপির চট্টগ্রাম নগরের এই অভিভাবক।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান দৈনিক দেশ বর্তমানকে বলেন, বিএনপি দলগতভাবে নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত কিন্তু দেশে সুষ্ঠ নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। এই পরিবেশে আমরা কোন নির্বাচন করবো না। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিবে নির্বাচন কমিশন, আমরাতো জনগণের কাছে যাবো, জনগণ পছন্দ করলে ভোট দিবে না হয় প্রত্যাখ্যান করবে, এটাই তো গণতন্ত্র ও নির্বাচন তবে এখন ওই পরিবেশ নেই।
বিএনপি এক সপ্তাহ সময় পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে অসুবিধা নেই বলে সুফিয়ান আরো বলেন, বিএনপি যেহেতু বড় দল সেহেতু প্রতিটি সংসদীয় আসনে ৩ থেকে ৫জন প্রার্থী আছে। দল যাকে যোগ্য মনে করবে সেই প্রতিদন্ধিতা করবে কিন্তু নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই, তাই নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হলে আমরা (বিএনপি) কোনভাবেই অংশ নিব না পাশাপাশি এই সরকারের পদত্যাগের এক দফা’র দাবিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি মাঠে থাকবে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
এক দফা আদায় না হলে, জনগণকে সাথে নিয়ে আগামী নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের দাবি হলো শেখ হাসিনার পদত্যাগ, কারণ দেশ এখন খাদের কিনারায় ওষান থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের প্রিয় নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছে যে বাংলাদেশকে আমাদের বাঁচাতে হবে। আমাদের দাবি অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলে, তাতে বিএনপি তথা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি ওই নির্বাচনে অংশ নিবে এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলার ৭টি সংসদীয় আসনে জনগণের ভোটে বিএনপি জয়লাভ করার আশাও করেন তিনি।
এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ নেব না বলে তিনি বলেন, এক দফা বাস্তবায়ন হলে আমাদের পার্লামেন্টারি বোর্ড তথা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং দেশ নায়ক তারেক রহমান যাকে মনোনয়ন দিবে তাঁর জন্য কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
স্বৈরাচারী এই সরকার আমাদের কাউকে নির্বাচনের আগে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সাজানো মামলায় সাজা দিলে প্রতিটি আসনে আরো দু’জন করে প্রার্থী প্রস্তুত আছে বলেও জানান চট্টগ্রাম বিএনপির এই নেতারা।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে ১৫টি উপজেলা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকা মিলে মোট ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯৮টি। আর বুথের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৬৮৩টি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে ১৫ উপজেলায় ৫৮টি ভোট কেন্দ্র ও ৮১৬টি ভোট কক্ষ বেড়েছিল। ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্নজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট কেন্দ্র বৃদ্ধি করা হয়েছিল বলে জানান জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা। এবারও ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কেন্দ্র সংখ্যা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা।