চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা প্রশ্নে দুই সংস্থার ঠেলাঠেলি

ফের পাহাড় ধসের শঙ্কা

পুরো বর্ষার শেষ সময়ে এসে গত চারদিনের বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা। বাসা-বাড়ি ছাড়াও ডুবেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

এদিকে ডুবে যাওয়া অধিকাংশ সড়কে সকাল থেকেই বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন চলাচল। কোথাও কোথাও রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করলেও ভাড়া কয়েকগুণ বেশি। ফলে অধিকাংশ মানুষকে হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে পাহাড় ধসে প্রাণহানি থেকে রক্ষা করতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি থেকে লোকজনকে সরিয়ে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। নিরাপদে সরিয়ে যেতে করা হচ্ছে মাইকিং। খোলা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

পানি ঢুকেছে চাকতাই-খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন পণ্যের গুদামে। পাশাপাশি নগরীর বাকলিয়া মিয়াখান নগর, মাস্টারপোল, চকবাজার, ষোলশহর, শোলক বহর, হালিশহর, বহদ্দারহাট, বাড়াইপাড়া, ঘাসিয়ার পাড়া, করম পাড়া, কমার্স কলেজ সংলগ্ন এলাকা, হালিশহর ছোট পুল, বড় পুলসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। চলাচলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি দুইগুন তিনগুন কোথাও কোথাও চার/ পাঁচ গুন ভাড়া দিতে হচ্ছে যাত্রীদের।

নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বাড়াই পাড়ার বাসিন্দা তানজিলুর রহমান ইমন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উঠে আমাদের এলাকায়। গত কয়েকদিন হাঁটু পর্যন্ত পানি থাকলে আজ কোমর সমান। কয়েকশত পরিবার পানিবন্দি। বিশেষ করে কলোনিগুলোর বাসিন্দারা জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে আছেন। পাশাপাশি বেশিরভাগ ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকেছে।

এদিকে পানিবন্দি অনেক পরিবারে ডুবেছে রান্নার চুলাও। কোন কোন পরিবারে রান্না হচ্ছে না গত তিনদিন ধরে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন দেশ বর্তমানকে বলেন, কেবি আমান আলী রোডসহ বেশীর ভাগ এলাকাই হাঁটু পানিতে তলি গেছে। নিচ তলায় বসবাস করা বেশীরভাগ ঘরে পানি ঢুকেছে। এমনকি বেশীরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি। এলাকাবাসী চলাচল করতে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। আমরা এখন পানির উন্নয়নে আছি বলেও আক্ষেপ করনে তিনি।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানায়, রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নচাপের কারণে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টি আরও তিনদিন অর্থাৎ আগামী ৯ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

জলাবদ্ধতা কারণ জানতে চাইলে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী করে দেশ বর্তমানকে বলেন, সিটি করপোরেশনকে ঠিকমতো নালা–নর্দমাগুলো পরিষ্কার করতে হবে। নতুন খাল খনন করতে না পারায় নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা বেশি হচ্ছে। তবে সব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে মানুষ সুফল পাবে।

জলাবদ্ধতার জন্য সিডিএ ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য সিটি করপোরেশনকে দায়ী করলেও মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী দুষলেন সিডিএকে। মেয়র বলেন, যে ওয়ার্ডে মেগা প্রকল্পের কাজ করবে ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রস্তাব ছিল। সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলেছি। তারা (সিডিএ) তো কর্পোরেশনকে কোনো কিছু জানায়ওনি। তারা তাদের ইচ্ছেমত কাজ করছে। এত বড় প্রকল্প, চট্টগ্রামবাসীর বাঁচা–মরার প্রশ্ন, এরপরও তারা সমন্বয় করছে না।

এদিকে পাহাড় ধসের শঙ্কা নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, সম্ভাব্য পাহাড়ে ধরে আশঙ্কা থেকে মানুষের আর প্রাণ না দিতে হয় সেজন্য কাজ করছি। মাইকিং থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন করার লক্ষ্যে প্রতিদিন জেলা প্রশাসনের টিম কাজ করছে। শনিবার (৫ আগস্ট) রাতে আমি নিজেই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে ২৫০টি পরিবারকে সরিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতোমধ্যে আড়াইশ পরিবারকে পাঠানো হয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার থেকে শুরু করে প্রতিবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।