টানা বৃষ্টিতে কোমর পানির নিচে চট্টগ্রাম
গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টিতে পানিতে ডুবেছে চট্টগ্রামের রাস্তাঘাট, বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানিবন্দি নগরীর বিভিন্ন এলাকা। এমনকি সিটিমেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনও কোমরপানিতে ডুবে যায়।
বৃষ্টি যেন থামছেই না ! নগরবাসীকে রীতিমতো পানির নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। কর্মদিবস ও স্কুল -কলেজ খোলার দিন হওয়াতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
আগের দুদিন যেসব জায়গায় পানি ওঠেনি, রোববার (৬ আগস্ট) সেসব এলাকাও ডুবেছে। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাকলিয়া, হালিশহর, বড়পোল, রেয়াজউদ্দিন বাজার, তিন পোলের মাথা, জুবিলী রোড, সল্টগোলা থেকে ইপিজেড, ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, কাপাসগোলা, বাদুরতলা, চকবাজার ডিসি রোডসহ নগরীর নিচু এলাকার জনসাধারণ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রোববার সকালে এসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা যায়।
শনিবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে নগরীতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। অতি ভারি এই বর্ষণ চলে রোববার দুপুর পর্যন্ত। দুপুর ৩টার পর বৃষ্টি কিছুটা কমে আসে।
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে নগরীর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে এই জলাবদ্ধতায় চরম বিপত্তিতে পড়ে নগরবাসী। সকাল থেকে নগরীতে যানবাহন ছিল হাতে গোনা। অল্প যা যানবাহন চলাচল করেছে সেগুলোর চালকরা ভাড়া দাবি করেছেন দ্বিগুণ। ডুবে থাকা সড়কে কোথায় নালা আর কোথায় গর্ত আছে বুঝতে না পেরে অতি সাবধানে পানি ডিঙিয়ে হাঁটাচলা করছিলেন পথচারীরা। কেউ কেউ সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে পার হওয়ার চেষ্টা করেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীতে ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৪৭ মিলিমিটার হয়েছে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে আরও দু’দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে।