উল্টোপথে গাড়ি চালানো, সিটবেল্ট না পরা এবং হাইড্রোলিক হর্ন বাজানোর অপরাধে গত এক মাসে নগরজুড়ে এক হাজার ৭৫৩টি গাড়িকে মামলা দিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলটন পুলিশের (সিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। অর্থাৎ, এসব অপরাধে আগে নমনীয়তা দেখালেও এখন কঠোর হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগ।
পুলিশ জানায়— যাত্রী এবং চালকের নিরাপত্তার স্বার্থে আর এসব বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় নয়। এজন্য জোরেশোরে সচেতনতা চালানো হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, মোবাইল ফোনে কথা বলা, যত্রতত্র গাড়ি থামানো-পার্কিংয়ের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শধু গত জুলাইয়ে উল্টোপথে গাড়ি চালনা ও সিটবেল্ট না পরার অপরাধে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে। তাদের আওতাধীন কোতোয়ালী, বাকলিয়া, চকবাজার ও সদরঘাট থানা এলাকায় ৪৬৩ জনকে উল্টোপথে গাড়ি চালনায় এবং সিটবেল্ট না পরায় ২২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এছাড়া হাইড্রোলিক হর্নের জন্য আরও ৪০ জনকে মামলা দেয় ট্রাফিক পুলিশ।
অন্যদিকে উত্তর বিভাগের আওতাধীন চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, খুলশী ও বায়েজিদ থানা এলাকায় সিটবেল্ট না বাঁধায় ১৭৭ জনকে, উল্টোপথে গাড়ি চালনায় ৭৩ জনকে, হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহারের জন্য ১৫ জনকে মামলা দেওয়া হয়। কোতোয়ালী, বাকলিয়া, চকবাজার ও সদরঘাট থানা এলাকায় সিটবেল্ট না পরায় ২২৪ জনকে, উল্টোপথে গাড়ি চালনায় ৪৬৩ এবং হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের জন্য ৪০ জনকে মামলা দেয় ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগ।
তাছাড়া ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের আওতাধীন ডবলমুরিং, হালিশহর, পাহাড়তলী, আকবরশাহ এলাকায় সিটবেল্ট না পরায় ১২৩ জনকে, উল্টেপথে গাড়ি চালনায় ৩৮০, হাইড্রোলিক হর্নের জন্য ৩৯ জনকে মামলা দেওয়া হয়। অন্যদিকে বন্দর বিভাগে বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গা ও কর্ণফুলী থানা এলাকায় সিটবেল্ট না পরায় ১৮টি, উল্টোপথে গাড়ি চালনায় ১২১, হাইড্রোলিক হর্নের জন্য ৮০ জনকে মামলা দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) স্পিনা রানী প্রামাণিক বলেন, আগেও সিটবেল্ট, উল্টোপথে আসার জন্য মামলা হতো। তবে আমরা অনেক সময় এসব বিষয়ে ছাড় দিই। কিন্তু আমরা একটু ছাড় দিতে গিয়ে, লোকজনের ভোগান্তি কমাতে গিয়ে পরবর্তী সময়ে বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যারা সিটবেল্ট ছাড়া গাড়ি চালায় শুধু তাদের জন্য না, এটা পথচারী থেকে শুরু করে গাড়ি থাকা যাত্রীদের জন্যও ঝুঁকির। সবার কথা বিবেচনা করে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। যার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।