দীর্ঘ সাত মাস ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চালু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। সকাল ৭টা থেকে ট্রেন চলাচল শুরু করে।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রেল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান।
নতুন করে ট্রেন চলাচল শুরু হতে যাওয়ায় উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে ওই অঞ্চলের যাত্রীদের মধ্যে। যারা নিয়মিত নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা এসে অফিস করেন তারা যেন আবারো প্রাণ ফিরে পেলেন। অন্য দিকে শহরের প্লাটফর্ম পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে ট্রেন চলাচলের জন্য।
রেলওয়ের তথ্যমতে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এক জোড়া ডেমোসহ মোট ৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করত। পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে গেন্ডারিয়ার অংশে তিনটি পৃথক রেল লাইনের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ২০২২ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। সে সময় বলা হয়েছিল, ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ মার্চ অর্থাৎ ৮৯ দিন বন্ধ থাকবে ওই রুটের ট্রেন চলাচল। দীর্ঘ ৮৯ দিন পার হওয়ার পর দফায় দফায় মাসখানেক পর চালু হবে বলে জানানো হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় ওই রেলপথে আর ট্রেন চালাতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবশেষে নারায়ণগঞ্জবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব করতে ২৩৯ দিন (৭ মাস ২৭ দিন) পর মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে আবারও চালু হয়। কিন্তু ট্রেন চলাচল শুরু হলেও তেমন গতি বাড়বে না ওই রেলপথের যাত্রীদের। কারণ ট্রেনগুলো চলবে ১৩৮ বছরের পুরনো মিটারগেজ লাইনেই। তাই ট্রেনগুলো ছুটে চলবে আগের কচ্ছপের মতোই।
এদিকে ঐতিহাসিক পুরাতন ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ রেলপথ উন্নত করতে ২০১৪ সালে ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেললাইন প্রকল্প’ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তখন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৭৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কিন্তু প্রকল্প গ্রহণের ৮ বছর ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও ওই পথের দ্বিতীয় রেললাইন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি এখনও। তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। চুক্তি বাতিল করেছে ওই প্রকল্পের এক ঠিকাদার।
প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় তা শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি বর্তমানে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা আছে। প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
এমএইচএফ