গত চার বছরে চার বার সমাবর্তন করার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি চবি উপাচার্য। এমনকি বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যায় গত পাঁচ বছরে সমাবর্তনের জন্য কোনো বরাদ্দই রাখেনি চবি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, রবিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম বার্ষিক সিনেট সভায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৪০৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। তবে সমাবর্তন খাতে নেই কোনো বরাদ্দ। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস, জাতীয় দিবস ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সিনেট সভায় সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক চবির ৫ম সমাবর্তনের ব্যাপারে জানতে চান। এ সময় তিনি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানান।
তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার অন্যান্য সিনেট সদস্যের প্রশ্নের জবাব দিলেও ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুকের করা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পরবর্তী সিনেট সদস্যের প্রশ্নে চলে যান। সিনেট সভা সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো আলোচনা করেননি চবি উপাচার্য।
জানা গেছে, চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার এর আগে বিভিন্ন সময় ৫ম সমাবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সমাবর্তনের ঘোষণা দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। পরের বছর ১৬ নভেম্বর চবির ৫৬তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের পরিকল্পনা জানানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবারো সমাবর্তনের ঘোষণা দেন উপাচার্য।
এরপর ২০২২ সালের ২৩ জুলাই ৩৪তম সিনেট সভার দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তোর পর্বের এক পর্যায়ে আবারো ৫ম সমাবর্তনের ঘোষণা দেন ড. শিরীণ আখতার। একই বছর ১৭ নভেম্বর ৫৭তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৫ম সমাবর্তনের আয়োজন করা হবে বলে জানান উপাচার্য। এরপর চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাথে মতবিনিময়কালে ফের সমাবর্তনের ঘোষণা দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, চবিতে সর্বশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি। এতে ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ২০০৮ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পিএইচডি-এমফিলসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা অংশ নেয়। রাষ্ট্রপতি ও আচার্য আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে ও সাত হাজার ১৯৪ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এটিই ছিল চবির সবচেয়ে বড় সমাবর্তন। এর আগে তৃতীয় সমাবর্তন হয় তারও আট বছর আগে ২০০৮ সালে। প্রথম সমাবর্তন হয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ২৮ বছর পর ১৯৯৪ সালে এবং দ্বিতীয়বার সমাবর্তন হয় আরও পাঁচ বছর পর ১৯৯৯ সালে।