গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে বাজিমাত কৃষক কাইয়ুমের

আশপাশের জমিতে দোল খাচ্ছে ধান। এর পাশেই মাচায় দোল খাচ্ছে হলুদ-সবুজ তরমুজ। উপরে হলুদ হলেও ভেতরে টকটকে লাল। আবার অনেক তরমুজের উপরে সবুজ ভেতরে হলুদ।

প্রচণ্ড গরমে পানি জাতীয় ফলটির বেশ চাহিদা সৃষ্টি করেছে। কৃষকরা এই জাতের তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

প্রথমবারের মতো সীতাকুণ্ডের টেরিয়াল ব্লকে ৪০ শতাংশ জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন কৃষক মো. কাইয়ুম খান। কাইয়ুম খান বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলালেও প্রথমবারের মতো ফলাচ্ছেন তরমুজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরোপুরি অর্গানিক ও মালচিং পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে তরমুজ ক্ষেতটি। এখানে ইয়েলো বার্ট ও ব্ল্যাকবেরি জাতের তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এই গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষে কোনো ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়নি। পোকামাকড় রোধ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে ফেরমোন ফাঁদ ও ইয়েলো কার্ড। তরমুজের গাছের পরিচর্যার ঠিক রাখার জন্য দেওয়া হয়েছে মালচিং পেপার এবং উপরে মাচা দিয়ে ফল প্যাকেট জাত করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কৃষক মো. কাইয়ুম খান জানান, সীতাকুণ্ড কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পিপাস কান্তি চৌধুরীর পরামর্শে প্রথমবার আমি গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ করি। ৪০ শতাংশ জায়গায় জুড়ে আমার প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়েছে। অর্গানিকভাবে তরমুজের চাষ করায় তরমুজের ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করি এক লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করতে পারব। কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি বিভিন্ন ধরনের ফলন ফলিয়েছি। আমার ড্রাগন ও লেবুর বাগান আছে। এছাড়া তরমুজ ছাড়াও বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি।

গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে সীতাকুণ্ড কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা পিপাষ কান্তি চৌধুরী বলেন, সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিবুল্লাহ পরামর্শে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষককে বীজ, সার, মালচিং পেপার, জৈব বালাই নাশক বিতরণ করে সহযোগিতা করেছি। পরামর্শ এবং সহযোগিতার কারণে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে কিছুদিনের মধ্যে ফলন সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি হবে কৃষক যথেষ্ট লাভবান হবে বলে মনে করছি।