৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ, সাগরে যেতে প্রস্তুত জেলেরা

শনিবার ( ২২ জুলাই) মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে সাগরে ৬৫ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।  রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা নির্বিঘ্নে আবারও মাছ শিকার করতে পারবেন। সাগরে মাছ শিকারে যেতে প্রস্তুত জেলেরা।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা মানায় উৎপাদন বেড়েছে। তাই এবার জালে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ প্রচুর ধরা পড়বে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি অনুদান না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বহু জেলে।

শনিবার সকালে কলাপাড়া উপকূলের সাগর পাড়ে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এখনও বাঁধা সারি সারি নৌকা। টানা ৬৫ দিনের মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে শনিবার রাত ১২টায়। তাই সাগরে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা।

কক্সবাজার উপকূলে দেখা গেছে, নোঙর করা ট্রলারে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সাগরে মাছ ধরতে যেতে বেশ উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে জেলেদের মধ্যে। সাগরে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়বে সামুদ্রিক মাছ এমনটাই আশা করছেন তারা ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁকখালী নদীর উপকূলে সারি সারি নোঙর করা মাছ ধরার ট্রলার। প্রতিটি ট্রলার সেজেছে নতুন সাজে। ট্রলারে টাঙানো হয়েছে নতুন পতাকা। উপকূলের ঘাটগুলোতে আনা হচ্ছে বড় বড় জাল। শেষ মুহূর্তে জালের মেরামত কাজও দেখছেন জেলেরা। তারপর দ্রুত জালগুলো তোলা হচ্ছে ট্রলারে। একই সঙ্গে মজুত করা হয়েছে খাদ্য, ড্রামসহ নানা সামগ্রী।

৬ নম্বর ঘাটে নোঙর করা এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, রোববার মধ্যরাতেই আমাদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। তাই মনে খুব আনন্দ।

ফিশারি ঘাট এলাকার জেলে ছৈয়দ আলম বলেন, ট্রলারে তেল, জাল, ড্রাম, রশি ও খাদ্যসহ সব ধরনের সামগ্রী মজুত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ১০ দিনের জন্য সাগরে মাছ শিকারে যাব।

সাগরে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ ছিল বরফ মিলগুলো। এখন বরফ মিলগুলো চালু করতে চলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর মিলগুলো খোলায় আবার কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা।

কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ সমবায় সমিতি লিমিটেডের মো. ওসমান গণি টুলু বলেন, জেলেদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। এখন প্রতিটি ট্রলারে উৎসব চলছে। কারণ সবাই নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছ শিকারে সাগরে যাবে। আশা করি, রোববার মধ্যরাত থেকে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে যাবে।

জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ৬৪ হাজার ৩৯৪ জন। আর নিবন্ধিত নৌ-যান রয়েছে ৫ হাজার ১১৩টি।