চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ-বিএনপি উত্তেজনা, বড় সংঘাতের শঙ্কা

চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

গত ২০ জুলাই দুই দলের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি কার্যালয়ে হামলার ঘটনার পর নগরীতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সামনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

এদিন বিকালে নগরীর লালখানবাজার এলাকায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিউদ্দিন বাচ্চুর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। পদযাত্রায় যোগ দিতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালায় বলে দাবি আওয়ামী লীগ নেতাদের। সেদিন এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা হামলা চালায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ-বিএনপির এই সংঘর্ষে মোট ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১২ জন বিএনপির নেতাকর্মী। আর তিনজন আওয়ামী লীগের কর্মী। পাল্টাপাল্টি হামলার সময় দুই দলের কর্মীরা বেশ কয়েকটা যানবাহনও ভাঙচুর করে।

জানা গেছে, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও এক আওয়ামী লীগ কর্মী দুটি মামলা দায়ের করেছেন। খুলশী থানায় দায়েরকৃত এই দুই মামলায় বিএনপির ৫৩ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও সাড়ে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিএনপির ২৫ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশ বিএনপির মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে নাসিমন ভবন দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) বুধবার পরিকল্পিতভাবেই আমাদের কার্যালয়ে হামলা করেছে। এখনো সময় আছে, মামলা নিন।’

জানা গেছে, চট্টগ্রামে অতীতে কখনোই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কার্যালয়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেনি। চট্টগ্রামে এতদিন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের রাজনীতি বজায় রেখেছিল। বিভিন্ন সময় দুই দলের নেতাদের মধ্যে কথার বাকযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু দুই দল কখনো সংঘাতে জড়ায়নি।

এর আগে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি লালদীঘি ময়দানে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী লালদীঘি ময়দানে যে কোনো মূল্যে সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। অপরদিকে নগর বিএনপির তৎকালীন সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও লালদীঘিতে সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। এ নিয়ে তখন নগরীতে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। কিন্তু সমাবেশের আগের দিন রাতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের মধ্যে এ নিয়ে সমঝোতা হয়। দুই দলই লালদীঘি ময়দানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। আওয়ামী লীগ শহীদ মিনারে আর বিএনপি কাজীর দেউড়ি নূর আহমদ সড়কে সমাবেশ করে। তখন দুই দল মুখোমুখি অবস্থানে গিয়েও শেষপর্যন্ত সরে আসে। একে অপরের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখে।

চট্টগ্রামে রাজনীতির ঐতিহ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান শেষপর্যন্ত আর বজায় রইলো না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ তাদের দেউলিয়াত্বের পরিচয় দিয়েছে। এটা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে চরম লজ্জাজনক ঘটনা। চট্টগ্রামে অতীতে কখনোই রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি। দুই দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ছিল।’

বিএনপির সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘আমরা সংঘাত এড়াতে বিএনপির পদযাত্রার আগের দিন জেলা পরিষদ চত্বরে শান্তি শোভাযাত্রা করেছি। কিন্তু বিএনপির লোকজন সংঘাত তৈরির উদ্দেশ্যেই ন্যক্কারজনকভাবে আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। আমরা সহনশীলতায় বিশ্বাসী। কিন্তু তারা সহিংসতায় বিশ্বাসী।’