প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে গিয়ে পদ হারাল ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

ঢাকায় অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ সম্মিলন ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে গিয়ে পদ হারিয়েছেন কক্সবাজার জেলার মহেশখালী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবির।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) সকালে কলেজের দ্বিতীয় তলায় উঠার গেইট তালাবদ্ধ থাকায় নিজ কক্ষে প্রবেশ করতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবির।

তিনি জানান, ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাওয়ার আগে দুইদিনের জন্য কলেজের শিক্ষক সরওয়ার আলমকে দায়িত্ব দিয়ে যান। এই ফাঁকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি না মেনে এবং এডহক কমিটির সভা ও রেজুলেশন না করে একক সিদ্ধান্তে ১৬ জুলাই তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে জসিম উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইয়াসিন। যা কোনো ভাবেই বিধি সঙ্গত নয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ও ভবনের গেইটে তালাবদ্ধ করা আছে। সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইয়াসিন কলেজে উপস্থিত হয়ে আনসার সদস্য দিয়ে গেইটের তালা খুলে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় বন্ধ থাকা শ্রেণি কার্যক্রম। কারা গেইটে তালা দিয়েছে সেই বিষয়ে বলতেও নারাজ ইউএনও।

এসময় ইউএনও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবিরকে তার চেয়ার থেকে সরিয়ে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে জসিম উদ্দিনকে বসিয়ে দেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবির জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবহির্ভূতভাবে এডহক কমিটির সভা ও রেজুলেশন না করে তাকে সরিয়ে অবৈধভাবে অন্যজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়ে ইউএনও’র কাছে জানতে চাইলে ইউএনও মুহাম্মদ ইয়াসিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবিরকে আইনগত সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, ৮ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবিরকে সদস্য সচিব (পদাধিকার বলে), মুহাম্মদ ইসহাককে বিদ্যোৎসাহী সদস্য, ওয়াকার উদ্দিন ও আলতাফ উদ্দিনকে সদস্য করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) ফাহিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এডহক কমিটি অনুমোদিত হয়। এডহক কমিটি অনুমোদনের পর কোন ধরণের পরিচিতি সভা করা হয়নি।

এদিকে ১৬ জুলাই ইউএনও স্বাক্ষরিত পত্রে রেজুলেশন মোতাবেক মহেশখালী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আহমদ কবির (সহকারী অধ্যাপক) এর পরিবর্তে জসিম উদ্দীনকে (সহকারী অধ্যাপক) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করলেও এডহক কমিটির ৫ সদস্যের ৩ সদস্যই জানান কোনো ধরণের সভা করা হয়নি। যেখানে সভা হয়নি সেখানে রেজুলেশন করার প্রশ্নই উঠে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও মুহাম্মদ ইয়াসিন জানান, এডহক কমিটির সিদ্ধান্ত মতে রেজুলেশন করেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আহমদ কবিরকে সরানো হয়েছে। এসময় সাংবাদিকরা রেজুলেশনের কপি দেখতে চাইলে, ইউএনও তা দেখাতে অপারগতা প্রকাশ করে এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে জানান।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ যেদিন ঢাকায় সম্মেলনে যোগদান করেছেন ওইদিনই ওনার অনুপস্থিতিতে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে কেন জানতে চাইলে ইউএনও আরো জানান, এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আহমদ কবিরের আপত্তি থাকলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। এদিকে সকালে কলেজ গেইটে তালা ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করায় শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গনে প্রতিবাদ জানান।