পাঁচ ম্যাচের সিরিজের আগের চারটিতে দুই দলই সমান দুটি করে ম্যাচ জিতে। তাই শেষ ম্যাচটা ছিলো বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জন্যই ফাইনাল। যে দল জিতবে তাদের ঘরেই যাবে সিরিজ জয়ের ট্রফি। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রোটিয়া যুবাদের উড়িয়ে সিরিজ নিজেদের কাছেই রেখে দিলো বাংলাদেশের যুবারা।
সোমবার (১৭ জুলাই) রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২১০ রান তুলতেই ৪৯ ওভার ৪ বলে সবকটি উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দল। লক্ষ্য তাড়ায় ৪৭.১ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জুনিয়র টাইগাররা।
২১১ রান তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় বাংলাদেশ। আদিল এবং চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান মিলে যোগ করেন ৪০ রান। সপ্তম ওভারে ২১ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩ রান করা রিজওয়ান ফিরে গেলে ভাঙে জুটি। লিয়াম অ্যাল্ডারের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রমাশান সোমাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
তিনে নামা রিজান হোসেন পারেননি বেশিক্ষণ টিকতে। সেই অ্যাল্ডারকেই উইকেট দিয়ে গেছেন ৩ রান করা এই ব্যাটার। এরপর আদিল ও আরিফুল জুটি বাংলাদেশকে জয়ের দিকে নিয়ে যায়। পঁচিশতম ওভারে দলীয় ১৩৫ রানে ৭০ বলে ৭ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ৫৮ রান করে আদিল প্যাভিলিয়নে ফিরলে ভাঙে ৮৭ রানের জুটি।
জুয়ান জেমসের বলে উইকেটের পেছনে থাকা বেঞ্জামিন ম্যানুয়েল হ্যানসেনকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান আদিল। থিতু হওয়ার চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেননি নাঈম আহমেদ। জেমসের বলে সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে আউট হয়েছেন ৮ রানে। অনেকটা সময় টিকে থাকলেও দ্রুত রান তুলতে পারেনি শিহাব জেমস। আক্রমণাত্বক এই ব্যাটার এদিন ৪২ বলে মাত্র ১৭ রান করে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
শরাফুর জামান আউট হয়েছেন ৩ রান করে। দারুণ ব্যাটিং করা আরিফুল সাজঘরে ফিরেছেন ৭১ রানের ইনিংস খেলে। তাকেও আউট করেছেন জুয়ান জেমস। ৮১ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় তিনি তার ইনিংসটি সাজান। শেষ দিকে ১৫ রান করা মাহফুজুর রহমান রাব্বি এবং ৭ রান করা রাফি উজ্জামান মিলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। সাউথ আফ্রিকার হয়ে অ্যাল্ডার চারটি এবং জেমস তিনটি উইকেট নেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২১০ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনে নামা ডেভিডের ব্যাট থেকে আসে ৮৯ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৬৩ রান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন অধিনায়ক জুয়ান জেমস। জুনিয়র টাইগারদের হয়ে মাহফুজুর রহমান রাব্বি তিনটি, রোহানতদৌলা বর্ষণ, রিজান হোসেন ও রাফিউজ্জামান রাফি প্রত্যেকে দুটি করে এবং আরিফুল ইসলাম একটি উইকেট নেন।